ইবিতে ছাত্রদলের ২ নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২৫, ১০:৫৭ পিএম

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দুই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন এক দোকানদার। শনিবার (৫ জুলাই) বিকেল ৪টায় প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। পরে সন্ধ্যা ৬টায় অভিযোগটি তুলেও নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ‘ছাত্রদল করে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন ছাত্রদলের আহ্বায়ক।

অভিযুক্তরা হলেন— ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী উল্লাস মাহমুদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেন।

উভয়ই ক্যাম্পাসের নিয়মিত ছাত্র নন এবং শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ-এর অনুসারী বলে জানা গেছে।

এর আগে বিকেল ৪টায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী বলেন, কিছুদিন আগে ছাত্রদলের উল্লাস আমাকে দোকান বন্ধ করার কথা জানায়। দোকান বন্ধ না করলে আজকে (৫ জুলাই) দুপুর একটার দিকে উল্লাস ও সাব্বির আমার কাছে চাঁদা দাবি করে। যদি চাঁদা না দেই পরবর্তীতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। এমতাবস্থায় আমি ব্যবসায়িক কাজে অনিরাপদ বোধ করছি।

এ সময় তিনি নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনুরোধ জানান।

অভিযোগ দেওয়ার সময় ভুক্তভোগী দোকানদার বলেছিলেন, উনারা আমাকে একদিন ফোন দিয়ে দেখা করতে বলেন। আমি ক্যাম্পাসে এসে দেখা করার পর তারা বলে, ‘তুমি কি দোকানদারি করবা নাকি ছেড়ে দিবা?’ আমি বললাম দোকানদারি করবো। সেদিন আর তেমন কিছু বলেনি।

তিনি আরও বলেন, আজকে আবার ছাত্রদলের উল্লাস আর সাব্বির আমাকে দোকানের বাইরে ডেকে নিয়ে বলেন, ‘তোমাকে এর আগে একবার বলেছিলাম। আজকে আবার বলছি, ভাই আসবেন তাকে খুশি হয়ে কিছু টাকাপয়সা দিতে হবে। আমি তাকে বলে দিবো। তোমার কোনো সমস্যা হলে আমরা দেখবো। আজকে শনিবার, বুধবারের মধ্যে টাকা দিবা।’

অভিযুক্ত সাব্বির ও উল্লাস জানান, তারা আজকে অভিযোগকারীর দোকানে যাননি।

ভুক্তভোগী দোকানদার বলেন, আমি অভিযোগ দেওয়ার পর ওরা দুইজন আমার কাছে এসেছিল। আমার কাছে মাফ চেয়ে গেছে। বলেছে, যা হওয়ার হয়ে গেছে অভিযোগটা তুলে নাও। তাই আমি অভিযোগ তুলে নিয়েছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, দোকানদার আহাদ অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে। সে বলেছে, একটা ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। কোনো রকম চাপ ছাড়াই অভিযোগ তুলে নিচ্ছি। এরকম একটা লিখিত দিয়েছে।

শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহমেদ বলেন, আমি উভয়ের সাথে কথা বলেছি। তারা বলছে এসব কিছুই জানে না। তবে আমি স্পষ্ট বলছি, ছাত্রদল করে চাঁদাবাজির কোনো সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন করে থাকে আমরা সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেব। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাবো।

তিনি আরও বলেন, আমি একটা মাধ্যমে শুনলাম ভুক্তভোগী অভিযোগ তুলে নিয়েছে। তাকে কোনো ধরনের চাপ দেওয়া হয়নি। সে স্বেচ্ছায় অভিযোগ তুলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত