জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়তে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২৫, ০৮:২৮ এএম

পুলিশকে সত্যিকার অর্থে জনবান্ধব ও মানবিক পুলিশ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। কোনো সরকারই স্বাধীন পুলিশ কমিশন করতে চাইবে না। এজন্য পুলিশের পদোন্নতি ও বদলির আলাদা আইন করা প্রয়োজন। সর্বোপরি পুলিশকে সামরিক সরঞ্জাম ব্যবহার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মত দিয়েছেন বক্তারা।

গতকাল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ‘বাংলাদেশ পুলিশ সংস্কারে পরিপ্রেক্ষিত নাগরিক ভাবনা’ গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতি। এতে বিচারপতি, সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতারা ও সুধীজনরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত ডিআইজি ড. এম আকবর আলী। সমিতির সহসভাপতি আব্দুর রহমান খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কল্যাণ সমিতির উপদেষ্টা সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা।

অনুষ্ঠানে সাবেক আইজিপি আশরাফুল হুদা বলেন, ‘আজ থেকে ২৫-৩০ বছর আগে যে পুলিশ ইউরোপ-আমেরিকায় দেখেছি, তার ধারের কাছেও আমরা যেতে পারিনি। সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছি। পুলিশ সংস্কার এখন সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছে। পুলিশ সংস্কার নিয়ে সবার মধ্যেই আকাক্সক্ষা ছিল।’ ‘নতুন বাংলাদেশে সৃষ্টির জন্য পুলিশকে পূর্ববর্তী অন্ধকার যুগের চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে এবং দেখিয়ে দিতে হবে পুলিশ খারাপ না, কিছু খারাপ সদস্য দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার এই কথাটি আজকে সবার মনের কথা বলে উল্লেখ করেন হুদা।

মুখ্য আলোচক হিসেবে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, পুলিশে সংস্কার করতে হলে প্রথমেই হতে হবে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত, নিশ্চিত হতে হবে বেঁচে থাকার মতো সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ আধুনিক ও যুগোপযোগী করতে হবে। এ ছাড়া পুলিশের বিশেষ শাখা র‌্যাব থেকে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। এ সময় তিনি পুলিশের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণের জন্য আলাদা কমিটি গঠনেরও সুপারিশ করেন।

গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধে সাবেক ডিআইজি ড. মতিয়ার রহমান বলেন, পুলিশ বাহিনীর বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ঔপনিবেশিক আইন ও কাঠামো, মানবসম্পদ ও প্রযুক্তিগত ঘাটতি, জবাবদিহিতার অভাব ও দুর্নীতি এবং কর্মচাপ ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা। এ জন্য প্রয়োজন আধুনিক ও গণমুখী আইন প্রণয়ন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, পেশাগত প্রশিক্ষণ ও মনোভাব পরিবর্তন, পুলিশকে অযাচিত রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যায়ের আইন বিভাগের প্রফেসর ড. বোরহান উদ্দিন খান বলেন, বাংলাদেশে যে আইন আছে, সেটা প্রয়োগ হয় না। ওটা প্রয়োগ করার পর আপডেট করতে হবে। পুলিশের আইনে পরিবর্তন দরকার।

খেলাফত মজলিস বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ড. আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, পুলিশকে কখনো ক্ষমতাসীন দলের স্বার্থ রক্ষার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। এজন্য পুলিশের প্রয়োজনীয় সংস্কার করতে হবে।

পুলিশ সংস্কার কমিশনের সদস্য জারিফ রহমান বলেন, ঐকমত্য কমিশন থেকে পুলিশ সংস্কারকে বাদ দেওয়া জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে এক ধরনের বেইমানি।

সাবেক বিচারপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, বিগত সরকারের আমলে পুলিশের ভূমিকার কারণেই পুলিশ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। পুলিশ বাহিনীর সংস্কার অনিবার্য।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, পুলিশকে শুধু ব্যবহার করা হয়। পুলিশে অনেক ভালো মানুষ আছেন তারা পরিবর্তন চায়। পুলিশকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিতে হবে।

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, পুলিশের নিয়োগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে হবে। পুলিশ সদস্যদের সম্মানজনক বেতন-ভাতাদি দিতে হবে।

বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেন, শেখ হাসিনা পুলিশকে গণশত্রুতে পরিণত করেছিল। তিনি পুলিশ সদস্যদের পদায়নের ক্ষেত্রে ফিট লিস্ট করার সুপারিশ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম বলেন, ঔপনিবেশিক আইন পরিবর্তনের মাধ্যমে পুলিশ সংস্কার করতে হবে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতি হতে হবে মেধার ভিত্তিতে।

সভাপতির বক্তব্যে ড. এম আকবর আলী বলেন, ১৮৬১ সালের পুলিশ আইনে নিয়ন্ত্রণের কথা বলা আছে। পুলিশের জনসম্পৃক্ততার কথা নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত