গরু চুরির হিড়িক

তারাগঞ্জে কৃষকের গোয়ালঘর ভেঙে ৬টি গরু চুরি

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৫, ০২:১২ পিএম

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় গভীর রাতে গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ছয়টি গরু ও দুটি ছাগল চুরি করে নিয়ে গেছে চোরচক্র। গরুগুলো হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষক মেনারুল ইসলাম। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ঘনিরামপুর ঝাকুয়াপাড়া গ্রামে।

মেনারুল ইসলাম জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতো গরুগুলোকে খাবার দিয়ে গোয়ালঘরে তালা দিয়ে ঘুমাতে যান। সকালে উঠে গিয়ে দেখেন, গোয়ালঘরের দরজা ভাঙা। ভেতরে রাখা দুটি গাভী, চারটি বলদ ও দুটি ছাগল উধাও। চুরি যাওয়া পশুগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় কুর্শা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আব্দুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘এলাকায় মাদকাসক্ত ও মোবাইল জুয়ার আসক্তদের আনাগোনা বেড়েছে। পাশের নদীপাড়ের অঞ্চল মাদকের আস্তানায় পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর এসব এলাকায় বাইরের লোকজন ভিড় করে। প্রশাসনের উচিত এসব জায়গায় নজরদারি বাড়ানো।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেনারুলের পরিবার তার গরুগুলো দিয়েই চলত। চুরির ঘটনায় তারা জীবিকার একমাত্র ভরসা হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছে।’

এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারাগঞ্জ বণিক সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নাল আবেদীন আফানও। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি উপজেলায় একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আগে কখনো গরু চুরির ঘটনা শোনা যেত না। এখন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা থেকেও গরু চুরি হচ্ছে, এতে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।’

এদিকে একই উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের দোহাজারী কওলাপাড়া গ্রামেও ঘটেছে একই ধরনের ঘটনা। শনিবার রাতে আব্দুল মজিদের ছেলে সবুজ মিয়ার গোয়ালঘরের দরজা ভেঙে দুটি গরু চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা। সবুজ বলেন, ‘গভীর রাতে ঘাস খাইয়ে ঘুমাতে যাই। সকালে উঠে দেখি দরজা ভাঙা আর গরু নেই। প্রায় ২ লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেল।’

চুরির ঘটনায় গতকাল সোমবার তারাগঞ্জ থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের হয়েছে। থানার অফিসার ইনচার্জ এমএ ফারুক জানান, ‘চুরি হওয়া গরুগুলো উদ্ধারে অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত