কারগিল যুদ্ধে নিহত সেনাকে ২৬ বছর পর স্বীকৃতি পাকিস্তানের

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৫, ০৫:৩০ পিএম

কারগিল যুদ্ধে নিহত সেনাকে প্রায় ২৬ বছর পর ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে সম্মান জানিয়েছে পাকিস্তান। ১৯৯৯ সালে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধটি সংগঠিত হয়।

শনিবার (৬ জুলাই) পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল আসিম মুনীর খাইবার পাখতুনখোয়ার স্বাবি জেলায় ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খান শহীদের কবরস্থানে গিয়ে তাঁকে ‘গভীর শ্রদ্ধা’ জানায়। তার ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাকে সম্মাননা জানানো হয়।

তবে কারগিল যুদ্ধে নিহত হওয়ার পর এই সেনাকে অস্বীকার করেছিল পাকিস্তান।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী নিহত ক্যাপ্টেন খানকে ‘অটল সাহস’ ও ‘দেশপ্রেমের প্রতীক’ বলে আখ্যায়িত করেছে। অথচ তার মৃত্যুর পর পাকিস্তান সরকার তার পরিচয় অস্বীকার করে এবং মৃতদেহ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে তার পরিচয় শনাক্ত করার মতো স্পষ্ট প্রমাণ ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে ছিল বলে দাবি।

 

১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধে পাকিস্তান সরকার তাদের সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে এবং দাবি করে অনুপ্রবেশকারীরা ‘মুজাহিদিন’। তাই পাকিস্তান প্রথমে ক্যাপ্টেন শের খানের পরিচয় স্বীকার করেনি, যদিও তার সঙ্গে পাওয়া চিঠিপত্রে সেনা পরিচয় স্পষ্ট ছিল।

ভারতীয় সেনাবাহিনী, বিশেষত ১৯২ মাউন্টেন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার এম.পি.এস বাজওয়া (অবসরপ্রাপ্ত), তার সাহসিকতায় মুগ্ধ হয়ে মরদেহের সঙ্গে একটি প্রশংসাপত্র লিখে দেন। ভারতীয় সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগই ক্যাপ্টেন খানের অবদানের স্বীকৃতিতে মুখ্য ভূমিকা রাখে। পরে পাকিস্তান তাকে দেশটির সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘নিশান-ই-হায়দার’ মরণোত্তর প্রদান করে।

শনিবার পাকিস্তান সেনাবাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে ক্যাপ্টেন খানের ২৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করে। সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনীরসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা এবং ক্যাপ্টেন খানের পরিবার তার কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ অধিদপ্তর এক্স (টুইটার)-এ পোস্ট করে জানায়, ‘১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধে ক্যাপ্টেন কর্নেল শের খান অসাধারণ সাহসিকতা ও নেতৃত্ব প্রদর্শন করে দেশের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি সেনাবাহিনী ও জাতির জন্য চিরন্তন প্রেরণার উৎস।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত