প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী তাসনিম জারাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডিতে আপত্তিকর, দৃষ্টিকটু এডিট করা ফটোকার্ড ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মচারী মেকানিক রেজাউল করিমকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর।
রেজাউল করিম মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়নের উত্তর নলবিলা গ্রামের দরগাহ ঘোনা এলাকার মোহাম্মদ ইসলামের পুত্র। তিনি মহেশখালী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মেকানিক পদে কর্মরত ছিল।
জানা যায়, গত ৭ জুলাই তার নিজের নামের ফেইসবুক আইডি ‘রেজাউল করিম কাজল’ থেকে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যসহকারে এডিট করা ফটোকার্ড শেয়ার করেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে তা স্থানীয় প্রশাসনের নজরে আসে। পরে সরকারি কর্মচারী হয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে রেজাউলকে বরখাস্ত করা হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম সার্কেল, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌ. মো. আলী আজগর স্বাক্ষরিত ৮ জুলাই অফিস আদেশ সূত্রে (স্মারক নং:- ৪৬.০৩.১৯০০.০১১.১৯.৬১৩ (পি).২৫-১৪) জানা যায়, মহেশখালী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মেকানিক মো. রেজাউল করিম সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর পরিপন্থী এবং সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা, ২০১৮ মোতাবেক অসদাচণের আওতাভুক্ত ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় এবং কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করে নিজ কর্মস্থলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণে প্রশাসনিক স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯ এর উপবিধি ১২(১) অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্তের অফিস আদেশ হাতে পেয়েছেন স্বীকার করে মহেশখালী উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুদর্শন কান্তি দে বলেন, মেকানিক রেজাউল করিমের বরখাস্তের আদেশের কপি হাতে পেয়েছি। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছে। এটা নিস্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সে কোন ধরণের অফিসের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকবেনা।
এবিষয়ে মহেশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার হেদায়েত উল্ল্যাহ বলেন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিপ্তরের মেকানিক রেজাউল করিমের বরখাস্তের বিষয়টি সঠিক। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিভাগীয় মামলাও হচ্ছে।
