মাত্র দ্বিতীয় ম্যাচ, প্রতিপক্ষ শৈশবের ক্লাব—তবু মঞ্চে ঝলক দেখাতে একদমই ভুল করেননি হোয়াও পেদ্রো। ব্রাজিলিয়ান এই তরুণের জোড়া গোলেই ক্লাব বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ব্রাজিলের ক্লাব ফ্লুমিনেন্সকে ২–০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি।
মাত্র সাত দিন আগে ব্রাইটন থেকে চেলসিতে যোগ দেন ২৩ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। সেই দিনই ক্লাব বিশ্বকাপের স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত হন। তিন দিন পর পালমেইরাসের বিপক্ষে মাঠে নেমে ৩৬ মিনিট খেললেও আলো ছড়াতে পারেননি। কিন্তু কাল রাতে ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করলেন পেদ্রো।
নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ১৮ মিনিটে বাঁ পাশ দিয়ে ফ্লুমিনেন্স বক্সে ঢুকে দূরের পোস্টে নিখুঁত শটে বল জড়ান জালে। গোলরক্ষক ফাবিও ঝাঁপালেও থামাতে পারেননি সেই শট। শৈশবের ক্লাবের বিপক্ষে গোল করে পেদ্রো অবশ্য উদ্যাপন করেননি—সম্ভবত ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার জায়গা থেকেই।
বিরতির পর আরও একবার জ্বলে ওঠেন তিনি। ৫৬ মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজের পাস থেকে দারুণ একক প্রচেষ্টায় ফ্লুমিনেন্সের জালে বল জড়ান দ্বিতীয়বারের মতো। এই গোলেও ছিলেন সংযত, উদ্যাপন না করে নীরবেই ফিরে যান নিজের অর্ধে।
ফ্লুমিনেন্স চেষ্টা করেও ম্যাচে ফিরতে পারেনি আর। তার আগে একবার গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে দেন চেলসির ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়া। ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হয়ে যায় পেনাল্টিও। সব মিলিয়ে দারুণ এক লড়াইয়ে ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের ধারাবাহিকতা ধরে রাখল চেলসি।
ফ্লুমিনেন্সের বিদায়ের মধ্য দিয়ে টানা ১৩বারের মতো ফিফা আয়োজিত ক্লাব পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় ইউরোপিয়ান ক্লাবের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা অক্ষুণ্ণ থাকল। ২০১২ সালে সর্বশেষ করিন্থিয়ান্স চেলসিকে হারিয়ে এই প্রতিযোগিতায় দক্ষিণ আমেরিকার শিরোপা জয়ী হয়েছিল।
এবার চেলসি তৃতীয়বারের মতো উঠল ফাইনালে—২০১২ সালে রানার্সআপ হলেও ২০২১ সালে শিরোপা জিতেছিল তারা। ফাইনালে আগামী রোববার চেলসির প্রতিপক্ষ হবে আজ রাতের পিএসজি ও রিয়াল মাদ্রিদের মধ্যকার সেমিফাইনালের জয়ী দল।
ম্যাচ শেষে চেলসি কোচ এনজো মারেসকা বলেন, 'এটা আমাদের জন্য দারুণ এক অর্জন। লিগে চ্যাম্পিয়ন, কনফারেন্স লিগের শিরোপা, আর এখন ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল। এই মৌসুমটা স্মরণীয় করে রাখার জন্য এখন কেবল একটি ম্যাচ বাকি। আশা করি, শিরোপা নিয়েই মৌসুম শেষ করতে পারব।'
এই ম্যাচের পর নতুন এক নায়ক পেয়েছে ব্লুজ সমর্থকেরা—হোয়াও পেদ্রো, যার নীরব কিন্তু দৃঢ় উদযাপন আজও অনুরণিত হচ্ছে নিউইয়র্কের আকাশে।
সিরিজ হেরে মিরাজ বললেন, আমরা চেষ্টা করি
টেনিস খেলোয়াড়দের চাপ ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের মতোই: কোহলি