পাওনা টাকা চাওয়ায় কিশোরকে গাছে বেঁধে নির্যাতনে অভিযোগ

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৫, ০১:০৫ পিএম

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে মাত্র ২ হাজার ৪০০ টাকা পাওনা চাইতে গিয়ে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে ইমন (১৪) নামের এক কিশোর। গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানো হয় তাকে, কাটা হয় মাথার চুলও। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পাশের জেলা নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ফেলে রেখে আসে অভিযুক্তদের লোকজন।

ঘটনাটি ঘটে গত ১০ জুন, উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের নারায়নবাতুয়া গ্রামে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সৌদি প্রবাসী লিটন। ঘটনার পর তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেলেও তার সহযোগীরা এলাকায় রয়ে গেছেন। তারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য ইমনের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইমনের পরিবার জানায়, অভাবের কারণে ইমন প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেয় এবং দিনমজুরের কাজ শুরু করে। সম্প্রতি সে একই গ্রামের প্রবাসী লিটনের বাড়িতে কাজ করছিল। তার মোট পাওনা ছিল ২ হাজার ৪০০ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ২০০ টাকা দিলেও বাকি টাকা দীর্ঘদিন ধরে ফেরত দেননি লিটন।

গত ১০ জুন দুপুরে স্থানীয় একটি দোকানে লিটনের সঙ্গে ইমনের বাকবিতণ্ডা হয় পাওনা টাকা নিয়ে। ঘটনার একপর্যায়ে লিটনের নির্দেশে তার লোকজন ইমনকে মারধর করে তুলে নিয়ে যায় বাড়িতে। সেখানে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে তাকে বেধড়ক পেটানো হয় এবং মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়।

পরিবারের দাবি, নির্যাতনে ইমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে লিটনের লোকজন একটি সিএনজিযোগে তাকে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার একটি নির্জন স্থানে ফেলে রেখে যায়। পরে খবর পেয়ে ইমনের মা তাছলি বেগম ছেলেকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ইমনের মা বলেন, ‘ছেলেটা বাড়ির অভাব দেখে ছোট থেকে কাজ করছে। সেই ছেলেকে এমনভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। স্থানীয়ভাবে বিচার চাইলে কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। আমরা গরিব বলে কি বিচার পাব না?’

তিনি আরও জানান, এর ফাঁকে লিটন প্রবাসে পালিয়ে গেছেন।

পরিবারটি আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালতের নির্দেশে নাঙ্গলকোট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই সমর বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘আদালতের নির্দেশ মোতাবেক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

এ ঘটনায় যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত লিটনের বাবা মফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার সময় আমার ছেলে বাড়িতে ছিল না। তারা মিথ্যা বলছে। ছেলেটি ভালো না, তাই সমাজ থেকে তাকে দূরে রাখা হয়েছে।’

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, লিটনের প্রভাবের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক বলেন, ‘মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত