তামাকজনিত মৃত্যুর হার রোধ ও একটি সুস্থ জাতি গঠনের লক্ষ্যে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করার দাবি জানিয়েছে তামাক বিরোধী ১৭টি সংগঠন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বরে আয়োজিত সমাবেশ শেষে তারা প্রতীকী কফিন র্যালি বের করেন, যা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশে ১৫ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে তামাক ব্যবহারের হার ৩৫ দশমিক ৩ শতাংশ। তামাকজনিত কারণে প্রতিদিন মারা যাচ্ছেন ৪৪২ জন, প্রতিবছর পঙ্গুত্ববরণ করছেন প্রায় চার লাখ মানুষ, এবং পরোক্ষ ধূমপানে ক্ষতির মুখে রয়েছেন ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে তামাক ব্যবহারে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা, যেখানে একই সময়ে এ খাত থেকে রাজস্ব আয় মাত্র ২২ হাজার ৮১০ কোটি।
তাদের অভিযোগ, প্রচলিত আইনে তামাক পণ্যের প্রচার-প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকলেও বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলো নানা কৌশলে আইন লঙ্ঘন করে চলেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে শাস্তির আওতায় আনারও আহ্বান জানান বক্তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বর্তমানে দেশে তামাকজনিত রোগে ভুগছেন প্রায় ১৫ লাখ মানুষ। ১৫ বছরের নিচে ৬১ হাজারের বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানের কারণে নানাবিধ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। এ অবস্থায় আইনটি সংশোধন করে দ্রুত কার্যকর করা গেলে অধূমপায়ীরা যেমন সুরক্ষিত থাকবেন, তেমনি তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তামাকের প্রবেশ ঠেকানোও সম্ভব হবে। পাশাপাশি মৃত্যু ও রোগের হার হ্রাস পাবে বলেও মত দেন বক্তারা।
তারা বলেন, সংশোধিত আইনে ধূমপানের নির্ধারিত এলাকা বিলুপ্ত করা, তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয়স্থলে প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, খুচরা সিগারেট বিক্রি বন্ধ করা, ই-সিগারেট ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যের ব্যবহার বন্ধ করা, তামাক কোম্পানির সিএসআর বন্ধ এবং সিগারেট প্যাকেটে সচেতনতামূলক বার্তা ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ করার মতো পদক্ষেপ নিলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রগতি আসবে।
আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও ওয়াশ সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, প্রত্যাশার হেলাল আহমেদ, এইড ফাউন্ডেশনের আবু নাসের অনিক, টিসিআরসির ফারহানা জামান লিজা, বিএনটিটিপির হামিদুল ইসলাম হিল্লোল, তামাক বিরোধী নারী জোটের সিমা দাস শিমু, মানসের উম্মে জান্নাত, নারী মৈত্রীর নাসরিন আক্তার, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ডা. অরুনা সরকার, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের মিঠুন বৈদ্য এবং আহছানিয়া মিশন ইয়ুথ ফোরাম ফর হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিয়িংয়ের সমন্বয়কারী মারজানা মুনতাহা।
আয়োজনে অংশ নেওয়া ১৭টি সংগঠন হলো- ঢাকা আহছানিয়া মিশন, প্রজ্ঞা, ডরপ, নারী মৈত্রী, ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, বিএনটিটিপি, বিসিসিপি, টিসিআরসি, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট, নাটাব, এইড ফাউন্ডেশন, গ্রাম বাংলা উন্নয়ন কমিটি, প্রত্যাশা, পিপিআরসি, মানস, তাবিনাজ ও বিটিসিএ।
ভারী বৃষ্টি ও ভূমিধসের আশঙ্কা আবহাওয়া অধিদপ্তরের