দীর্ঘ লড়াই সংগ্রামের পর অস্ত্র জমা দেওয়া এবং পুড়িয়ে ফেলার মাধ্যমে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে)। কুর্দিস্তানের স্বাধীনতাকামী এই সশস্ত্র সংগঠনটির শান্তিপূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে তুরস্কের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
এরদোয়ান শনিবার বলেছেন, কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি (পিকেকে) তাদের প্রথম দফার অস্ত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে যে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে, সেটিকে তুরস্কের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা। এই উদ্যোগে পূর্ণ সমর্থন জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার উত্তর ইরাকের এক গুহার মুখে পিকেকে’র ৩০ জন সদস্য তাদের অস্ত্র পুড়িয়ে ফেলে, যা প্রতীকী হলেও দীর্ঘ দশকের সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এরদোয়ান তার দল একে পার্টির সদস্যদের উদ্দেশে আঙ্কারায় বলেন, ‘গতকাল থেকে সন্ত্রাসের অভিশাপ অবসানের পথে পা বাড়িয়েছে। আজ একটি নতুন দিন। ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হয়েছে। আজ থেকে মহান, শক্তিশালী তুরস্কের পথ বড় পরিসরে খুলে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপগুলো জাতিকে একত্রিত করেছে। এখন এই নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার জন্য সংসদকে আইনি ভূমিকা রাখতে হবে।
এরদোয়ান বলেন, ‘আশা করি আমাদের সংসদ এই প্রক্রিয়াকে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমর্থন জানাবে।’
তুর্কি কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে সংসদীয় কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় পিকেকে-কে নিরস্ত্রীকরণ ও গণতান্ত্রিক রাজনীতির পথে আনার তদারকি করা হবে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৪ সাল থেকে তুরস্কের সঙ্গে সশস্ত্র সংঘাতে লিপ্ত পিকেকে। সংগঠনটিকে তুর্কি সরকার অবৈধ হিসেবে ঘোষণা করেছে। পিকেকে চলতি বছরের মে মাসে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগ্রাম বন্ধ, দল বিলুপ্ত করা ও নিরস্ত্রীকরণ করার সিদ্ধান্ত নেয়।
দীর্ঘদিন বন্দি থাকা পিকেকের নেতা আবদুল্লাহ ওজালানের আহ্বানের পর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সংগঠনটি।
