বলিউডের জনপ্রিয় জুটি শাহরুখ খান ও কাজল। এই জুটি মানেই রোম্যান্স। কিন্তু আজ যে জুটির রসায়নে দর্শকরা মুগ্ধ, একসময় সেই কাজলের ক্যারিয়ার শেষ করে দিতে চেয়েছিলেন শাহরুখ। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। শাহরুখ খান মোটেও পছন্দ করতে না কাজলকে। প্রথম ছবির কাজ অর্থাৎ ‘বাজিগর’ করার সময়ই তিনি স্থির করেছিলেন কাজলের সঙ্গে আর কাজ নয়। তিনি চাননি বি-টাউনে কাজ পান কাজল। অভিনেত্রীর নামে নিন্দে করতেও পিছপা হননি।
জানলে অবাক হবেন, তখন পুরোদমে চলছে ‘বাজিগর’ ছবির শুটিং। হঠাৎ একদিন আমির খানের ফোন আসে শাহরুখের কাছে। নিজের আসন্ন ছবির জন্য কাজলকে কাস্ট করার কথা ভাবছিলেন আমির। তাই কাজল সম্পর্কে ফিডব্যাক নিতে ফোন করেছিলেন। কিন্তু শাহরুখের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।
শাহরুখ জানিয়ে দেন, কাজলের সঙ্গে কাজ করা যায় না। সে কাজে একেবারেই ফোকাসড নয়। এক কথায় আমির যেন কাজলের সঙ্গে কাজ না করে। এরপর কাজলের সঙ্গে যখন ছবিটি হিট হয়, তখন নিজেই তড়িঘড়ি ফোন করেন আমিরকে। বলেছিলেন, পর্দায় আমাদের রসায়ন অদ্ভুতভাবে কাজ করছে।
ভাবা যায় যাদের পর্দার রসায়ন আজ কিংবদন্তি, তাদের যাত্রা শুরু হয়েছিল ভুল বোঝাবুঝি দিয়ে! তারপর থেকে কাজলের প্রতি শাহরুখের ধারণা বদলায়। সেই থেকেই শুরু হয় বলিউডের সবচেয়ে আইকনিক জুটিগুলোর একটির ইতিহাস। সময়ের সঙ্গে বদলে যায় সম্পর্কের সমীকরণও।
‘বাজিগর’ ছাড়াও ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’, 'কাভি খুশি কাভি গাম', ‘মাই নেম ইজ খান’-এ অভিনয় করেছেন এই জুটি। সম্প্রতি কাজল এক সাক্ষাৎকারে, শাহরুখের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং বছরের পর বছর ধরে অভিনেতার কাছ থেকে যে শিক্ষা পেয়েছেন তা নিয়ে মুখ খোলেন।
কাজল বলেন, শাহরুখ ‘কিং খান’ হওয়ার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন। আমরা একসঙ্গে যেসব ছবি করেছি, সেগুলো ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে। আমার মনে হয়, পর্দায় আমাদের জুটিটা খুবই ভালো। ওর ক্যারিয়ারের কথা বলতে গেলে সে আজ যেখানে আছে তার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে।
কাজল তার ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে শাহরুখের দেওয়া একটি উপদেশের কথাও স্মরণ করেন। অভিনেত্রী বলেন, শাহরুখ আমাকে বলেছিল অভিনয়ের কৌশল শিখতে হবে। প্রতিটি শটে নিজের সর্বস্ব বিলিয়ে দেওয়ার অভ্যাসটা থেকে গেলে ক্লান্ত হয়ে পড়বে।
কাজল স্বীকার করেন, তিনি উপদেশটি প্রথমে গুরুত্ব দেননি। প্রতিটি শটে নিজের সেরাটা উজাড় করে দিতেন। কিন্তু ‘উধার কি জিন্দেগি’ (১৯৯৪)-এর শুটিংয়ের সময় যখন তার বয়স মাত্র ১৮ বছর, কাজলের একঘেয়েমি চলে আসে।
অভিনেত্রী বলেন, সে সময় আমি যে ধরনের ছবি করছিলাম তা খুবই কঠিন ছিল। ছবিটি শেষ হওয়ার পর আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম। বুঝতে পেরেছি শাহরুখ ঠিক কী বলতে চেয়েছেন। প্রতিটি ছবির প্রতিটি শটের জন্য নিজের সেরাটা দেওয়া সম্ভব নয়। সে সময় আমি আমার মাকে বলেছিলাম আর সিনেমা করতে চাই না।
