নারীরা আগুন ও মায়া নিয়ে জুলাই-আগস্ট সামলেছে: রাবি উপাচার্য

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৫, ০৮:০০ পিএম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেছেন, ‘জুলাই আগস্টে আমরা কোনো অসাধারণ মানুষকে দেখিনি। দেখেছি সাধারণ মানুষের অসাধারণ ভূমিকা। তাই সাধারণের অসাধারণ ভূমিকাকে স্মরণীয় করে রাখতে হবে। মায়া ও আগুন দুটি বিষয়, এর মিলন মেয়েরা ভালো ঘটাতে পারে। যেটি ছেলেরা পারে না। নারীরা যে আগুন ও মায়া নিয়ে জুলাই-আগস্ট সামলেছে, তা অসাধারণ। জুলাই চেতনায় কোনো ‘আমি’ নেই, আছে ‘আমরা’। ‘আমি’ ‘আমি’ বিষয়টি জুলাই চেতনাকে নষ্ট করে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।’

‘জুলাই নারী দিবস’ উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত আলোচনা সভায় উপাচার্য এসব কথা বলেন। সোমবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের আয়োজনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে দিবসটি উপলক্ষে সকাল ১০টার দিকে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ‘জুলাইয়ে আমরা যা দেখেছি, তা জীবনে একবারই দেখা সম্ভব। কীভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েদের রক্তে রাজপথ লাল হয়েছে। এই যে জুলাই জাগরণ, এর প্রাণভোমরা ছিল আমাদের মেয়েরা। তারা শুধু আন্দোলনে গলা মেলায়নি, স্লোগান ও নেতৃত্ব দিয়েছে। প্রেরণা হয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল তারা।’

আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দীনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খান, কোষাধ্যক্ষ মো. মতিয়ার রহমান উপস্থিত ছিলেন। আলোচক হিসেবে ছিলেন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রায়হানা শামস্ ইসলাম, ফিসারিজ বিভাগের অধ্যাপক ফৌজিয়া এদিব ফ্লোরা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ। ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম সভাটি সঞ্চালনা করেন।

আলোচনায় অধ্যাপক রায়হানা শামস্ ইসলাম বলেন, ‘আমি জুলাইয়ের সেই দিনগুলো দেখেছি, তোমাদের (ছাত্রীদের) অবদান আমি ভুলব না। ১৪ জুলাই রাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একটি অদ্ভুত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তোমরা যেভাবে তালা ভেঙে বেরিয়ে এসেছিলে, তা এই আন্দোলনকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল। জুলাইয়ে আমরা যা দেখেছি, তা জীবনে একবারই দেখা সম্ভব। আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের ছেলে-মেয়েদের রক্তে রাজপথ লাল হয়েছে। এই যে জুলাই জাগরণ, এর প্রাণভোমরা ছিল আমাদের মেয়েরা। তারা কেবল আন্দোলনে গলা মেলায়নি, তারা স্লোগান ও নেতৃত্ব দিয়েছে। এই আন্দোলনে মেয়েদের ভূমিকা তাই অনস্বীকার্য।’

অধ্যাপক ফৌজিয়া এদিব ফ্লোরা বলেন, ‘নারীদেরকে আলাদা করে সম্মাননা দেওয়ার কিছু নেই। নারীরা যে কাজ করেছে, যে সম্মান অর্জন করেছে, আমার মনে হয়না আর কোনো সম্মাননার প্রয়োজন আছে।’

অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, ‘জুলাইয়ে নারীরা শুধুমাত্র অবদান রাখেনি, তারা প্রেরণা হয়ে অবতীর্ণ হয়েছিল। জুলাইয়ে তারা কাধে কাধ মিলিয়ে লড়াই করেছে। নারী এবং পুরুষকে প্রতিপক্ষ হিসেবে তুলে ধরার কোনো কারণ নেই। প্রতিটা ক্ষেত্রে পরস্পরের সহযোগী হিসেবে পাশে থাকতে হবে, এর কোনো বিকল্প নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত