কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ

অধ্যক্ষকে পাঁচ ঘণ্টা অবরুদ্ধ রেখে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, পদত্যাগ দাবি

আপডেট : ১৪ জুলাই ২০২৫, ০৯:০৯ পিএম

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজে অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে পুরো ক্যাম্পাস। সোমবার (১৪ জুলাই) দুপুর তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঞাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

শুধু ডিগ্রি শাখাই নয়, কলেজের বিভিন্ন আবাসিক হল থেকেও শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে যোগ দেন। তারা ‘এক দফা এক দাবি—অধ্যক্ষের পদত্যাগ চাই’ স্লোগানে ক্যাম্পাস মুখর করে তোলেন।

বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে সংলাপে তারা কোনো আশ্বস্তিকর বক্তব্য বা সময়সূচি পাননি। তাই সংলাপ ভেঙে বেরিয়ে এসে আন্দোলনে নেমেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন এবং তা বাস্তবায়নের জন্য কলেজ প্রশাসনকে দুই কার্যদিবস সময় দেন। তবে দাবি বাস্তবায়নের কোনো অগ্রগতি না থাকায় শিক্ষার্থীরা সোমবার ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি:

১. কলেজে গণতান্ত্রিক ধারা বজায় রাখতে অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন
২. ডিগ্রি শাখার জন্য পৃথক ও আধুনিক ক্যাম্পাস স্থাপন
৩. নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও পর্যাপ্ত লাইটিং
৪. মাদকসেবী ও বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে ক্যাম্পাসে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন
৫. শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে বাস ও মাইক্রোবাস সার্ভিস চালু
৬. আবাসিক হল ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন
৭. সুপেয় পানি, আধুনিক ওয়াশরুম ও যুগোপযোগী শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত
৮. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে আলাদা ফান্ড গঠন
৯. কলেজের আয়-ব্যয় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে স্বচ্ছতা নিশ্চিত

এ বিষয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মফিদুল হাসান পল্লব বলেন, এই কলেজে গেলে প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলা যায় না। অধ্যক্ষ স্যারের দরজায় তালা দেয়া থাকে। কাউকে সঙ্গে নিয়ে না গেলে দেখা করা যায় না। এটা কেমন গণতান্ত্রিক পরিবেশ?

উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, ফয়জুন্নেসা হলে ছাত্রীদের ওপর মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়। কথায় কথায় শোকজ, বৈঠকের ভয় দেখানো হয়। এক বছর ধরে তামিমের ওপর হামলার বিচার হয়নি।

তামিমের ওপর ছাত্রলীগের হামলার বিষয়ে জাহিদুল বলেন, ঘটনাটি মিডিয়াতেও এসেছে। অথচ তদন্ত প্রতিবেদন আজও প্রকাশ হয়নি। প্রশাসনের এত গোপনীয়তা কেন?

নওয়াব ফয়জুন্নেসা হলের শিক্ষার্থী সাবরিনা সুলতানা বলেন, হলে পানি নেই। অভিযোগ জানালে সমাধান নেই। আমরা নয় দফা দাবি জানিয়েছি, কিন্তু কোনো কিছুতেই পরিবর্তন আসেনি। উনি (অধ্যক্ষ) শুধু হুমকি দেন—আমাদের বহিষ্কার করবেন।

বিক্ষোভ নিয়ে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আবুল বাসার ভূঞা বলেন, বিষয়টি তিনি দেখছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত