কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নিজ কন্যাকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ এনে স্ত্রী’র করা মামলায় স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত শনিবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যায় উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামে আইনুন নাহার আনিতা (২৬) নামে নিজ কন্যাকে গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন আমির হোসেন।
দাম্পত্য কলহের কারণে পিতার বাড়িতে অবস্থারত নিহত আনিতার একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। আনিতাকে হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার আমীর হোসেন (৬০) কে আদালতে সৌপর্দ করলে তিনি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল রব।
রবিবার বিকালে কন্যা হত্যার অভিযোগ এনে নিহতের মা তাসলিমা খাতুন বাদি হয়ে স্বামী আমীর হোসেনকে একমাত্র এহাজার নামীয় আসামি করে মামলা করেন। এই মামলার এজাহার নামীয় আসামি আমীরকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার দুপুরে অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মামুনুর রহমানের আদালতে সৌপর্দ করা হয়। আদালত শুনানী শেষে জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণ করেন বলে জানান ওসি।
সূত্রে জানা যায়, ‘চার বছর পূর্বে উপজেলার গোলাপনগ গ্রামের বাসিন্দা মহিনের সঙ্গে পারিবারিক ভাবে আনিতার বিয়ে হয়। ওই সংসারে দাম্পত্য জীবনের তাদের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। সেখানে দাম্পত্য কলহের কারনে আনিতা পিতার বাড়ি চলে আসেন এবং ওই স্বামীকে তালাক দিয়ে ২য় বার আনিতার বিয়ে হয়।
গত তিন মাস পূর্বে আবারও ২য় স্বামীর সাথে দাম্পত্য কলহ ও বনিবনা না হওয়ায় আনিতা আবারও বাবার বাড়িতে চলে আসেন। সম্প্রতি অনিতা আবারও তার প্রথম স্বামীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে সেখানে আবার ফিরে যেতে চাওয়ায় বাদা সাধে পিতা আমীর হোসেন। এই ঘটনায় সৃষ্ট দ্বন্দের জের ধরেই এই হত্যাকান্ড বলে ধারণা করেন এজাহারকারী।
গত শনিবার সন্ধ্যায় বাড়িতে একা পেয়ে নিজ কন্যা অনিতার ব্যবহৃত ওড়না গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন আমীর হোসেন।
মামলার বাদী তাসলিমা খাতুনের অভিযোগ, ‘শনিবার সন্ধ্যার পর বাড়িতে ঢুকে মেয়ে অনিকার কোন সারাশব্দ না পেয়ে ডাকাডাকি করি। পরে ঘরে ঢুকে দেখি, গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় অনিতা অচেতন হয়ে পড়ে আছে। ওই সময় বাড়িতেই ছিলেন স্বামী আমীর হোসেন তিনিই স্বীকার করেন যে অনিতাকে সে গলায় ফাঁস দিয়ে মেরে ফেলেছে।’
ওসি আবদুল রব বলেন, ‘শ্বাসরোধ করে হত্যায় নিহত অনিতার মায়ের করা মামলায় একমাত্র এজাহার নামীয় অসামি আমীর হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে সে তার কন্যাকে উচ্ছৃঙ্খল ও বাবা মায়ের অবাধ্য হয়ে একই সাথে বর্তমান ও পূর্বের স্বামীর সাথে যোগাযোগ রাখার কারণে এই হত্যাকান্ড বলে উল্লেখ করেছেন।’
