জলবদ্ধতায় পুরো এলাকায় পানি আর পানি ডুবে যাওয়ার ভয় সেই ভয়ই সত্যি হয়ে প্রাণ দিতে হলো শিশু খাদিজাকে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহরের বাড়িতে চুলো জলছে না খাবারের অভাব তীব্র, তাই মা রেবেকা খাতুনের সাথে খাদিজা (৬) ও বোন আয়েশা (৮) গিয়েছিল নানা বাড়িতে।
সেই নানার বাড়িতে গিয়ে পুকুরে পানিতে ডুবে খাদিজার প্রাণ হারাতে হলো। সে সদর উপজেলার ধুলিহর গোবিন্দপুর গ্রামের চায়ের দোকানী মমিনুর রহমান মহিন গাজীর ছোট মেয়ে। রাতে নানা বাড়ি সদর উপজেলা শিবপুর ইউনিয়নের ঝিটকি গ্রাম থেকে খাদিজার মরদেহ ধুলিহরে নিয়ে আসা হয়।
মা রেবেকা খাতুন জানান, খাদিজা ও বোন আয়শা মঙ্গলবার দুপুরে সময় নানার বাড়ির পাশে খাদিজা খেলাধুলা করতে করতে সবার অজান্তে একটি পুকুরে পানিতে পড়ে যায়। খাদিজাকে পানিতে ভাসতে দেখে তার বোন আয়শা তাকে উদ্ধার করতে যেয়ে সেও পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। খাদিজা ঘটনা স্থলে মৃত্যুবরণ করেন। জ্ঞানহারা আয়েশাকে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দেয়া হলে আয়েশা আশঙ্কা মুক্ত হয়।
স্থানীয় সংবাদকর্মী মেহেদী হাসান শিমুল জানান, মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তাকে এক নজরে দেখার জন্য শত শত নারী পুরুষ ভীড় জমায়। এলাকাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া। সবচেয়ে হৃদয় বিদারক বিষয় হলো যে পানির ভয়ে এলাকা ছাড়লো আয়েশা-খাদিজারা। নানা বাড়িতে গিয়েও সেই খাদিজাকেই জীবন দিতে হলো।
আর এর থেকে বড় হৃদয় বিদারক বিষয় হলো খাদিজার দাফন করার মতো জায়গা না থাকায় বাড়ি থেকে বেশ দুরে গোবিন্দপুর গ্রামের উচু মাটির জায়গায় কবরস্থ করতে হলো খাদিজাকে।
সাতক্ষীরা থানার অফিসার ইনচার্জ -ওসি শামীনুল ইসলাম পরিবারের বরাতে সাংবাদিকদের জানান, সাতক্ষীরার নিম্নাঞ্চল বর্তমানে পানিতে তলিয়ে গেছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মমিনুর রহমান মহিন গাজী ও রেবেকা খাতুন দম্পতির দুই মেয়েই ঝিটকিতে খেলতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায় একজন প্রাণ হারায় অন্যজন চিকিৎসায় প্রাণ ফিরে পায়। এঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ডের প্রস্তুতি চলছে।
