‘ইরান এখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিতে পারে’

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০২৫, ১১:০১ এএম

গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলার পর ইরান এখন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন।

বিশ্ববিখ্যাত সাংবাদিক ক্রিস্টিয়ান আমানপুরের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘আমাদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান এখনো ‘‘ওয়েপনাইজ’’ করার সিদ্ধান্ত নেয়নি। কিন্তু এখন আশঙ্কা আছে, তারা তাদের কর্মসূচি মাটির অনেক গভীরে নিয়ে যেতে পারে এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বেছে নিতে পারে।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ইরান আগের চেয়ে অনেক দুর্বল হয়েছে এবং কূটনৈতিক সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে, তেহরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচিকে অস্ত্রীকরণে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পরিস্থিতি আগের তুলনায় আরও খারাপ হতে পারে।

ব্লিঙ্কেন বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাফান, নাটাঞ্জ এবং ফোরদো পারমাণবিক স্থাপনায় দূরপাল্লার বোমারু ও সাবমেরিন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ব্যাপক হামলা চালায় গত ২২ জুন। ট্রাম্প এই হামলাকে পারমাণবিক কর্মসূচি ‘ধ্বংস হয়েছে’ বলে ঘোষণা করেন।

ব্লিঙ্কেন আরও জানান, ‘আমরা এবং আগের প্রশাসনগুলোর বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সামরিক হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে সর্বোচ্চ দুই বছর পিছিয়ে দিতে পারে—হয়তো এর চেয়েও কম। এই সময়ে ইরান কর্মসূচি আরও গভীরে নিয়ে যেতে এবং তারা এতদিন যে সিদ্ধান্ত নেয়নি, সেই অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘আগের গোয়েন্দা তথ্য মতে, ইরান সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়নি।’ ট্রাম্পের পূর্বসূরি বাইডেন প্রশাসন ইরানকে পরমাণু চুক্তিতে ফিরিয়ে আনতে এবং আরও শক্তিশালী, দীর্ঘস্থায়ী চুক্তির উদ্দেশ্যে কাজ করেছিল। কিন্তু দুই বছর ধরে চলা পরোক্ষ আলোচনা কোনো ফল আসেনি।

সাক্ষাৎকারে ব্লিঙ্কেন জানান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে ইরান ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের একাধিক প্রস্তাব দিয়েছিল—এর মধ্যে ছিল ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এক শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা ও তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা শুরু করা। ‘তারা চাইলেই এ ধরনের প্রস্তাব আবার টেবিলে আনতে পারে” বলেন ব্লিঙ্কেন। ‘আমি মনে করি, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন তার কাঙ্ক্ষিত উত্তম চুক্তি করার সুযোগ পেয়েছেন।’

ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৬০ দিনের সময়সীমা দেয় আলোচনায় বসার জন্য। কিন্তু ৬১তম দিনে ইসরায়েল ইরানে আকস্মিক সামরিক অভিযান শুরু করে।

১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাসমূহে একাধিক হামলা চালায়, এতে বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডার ও শত শত বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এরই জবাবে ইরানের হামলায় ২৭ জন ইসরায়েলি নাগরিক প্রাণ হারান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত