কক্সবাজারের টেকনাফে বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত আজিজুর রহমান (৫১) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩৮ দিন পর মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিন।
নিহত আজিজুর রহমান টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভী পাড়ার সৈয়দ আহমেদের ছেলে। তিনি গত ৯ জুন মৌলভী পাড়ায় বিজিবির সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষে আহত হয়েছিলেন।
ইউপি সদস্য বেলাল উদ্দিন বলেন, ওই দিন ঘটনার সময় আজিজুর রহমানসহ আরও ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। আহতরা বিভিন্নজন বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে আজিজুর রহমান মারা যান। দুপুরের দিকে টেকনাফ থানা পুলিশ নিহত আজিজুর রহমানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছে।
টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারের পক্ষে বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
গত ৯ জুন টেকনাফের হ্নীলায় নাফনদীতে জাল বসানোর প্রস্তুতিকালে বিজিবি কর্তৃক এক জেলেকে আটক করে নিয়ে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে এলাকার লোকজন টেকনাফ কক্সবাজার সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে দীর্ঘ ৪ ঘণ্টাব্যাপী সড়ক অবরোধ করে রাখে। পরে সন্ধ্যায় সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য বিজিবি ফাঁকা গুলিবর্ষণ করলে স্থানীয় নারীসহ ১১ জন গুলিবিদ্ধ হয়।
এ ঘটনায় পরের দিন বিজিবি বাদী হয়ে ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে। এ ঘটনায় আহত ছিলেন আজিজুর রহমান।
ঘটনার পর এই ঘটনায় আজিজুর রহমানের স্ত্রী মরজিনা আকতার বাদী হয়ে গত ৭ জুলাই আদালতে সিআর মামলা দায়ের করেন। যেখানে বিজিবির সদস্যসহ ১২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচার অভিজিৎ চৌধুরী এটি আমলে নিয়ে বিজিবির সংশ্লিষ্ট ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে কিনা জানতে চেয়ে টেকনাফ থানাকে নির্দেশ দেন।
টেকনাফ থানার ওসি মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন জানিয়েছেন, আদালতের নির্দেশ মতে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আজিজুর রহমানের মৃত্যুর বিষয়টি আদালতকে অবহিত করা হবে।
কক্সবাজার চিফ জুড়িসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহাজাহান ইলাহি নূরী বলেন, পুলিশের প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ আদালত ওই নারীর এজাহার আমলে নিয়ে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেদনে আদালত বলছে, বাদীর বক্তব্য অনুযায়ী বিজিবির করা মামলাটি কাউন্টার মামলা। কাজেই এটারও তদন্ত হওয়া দরকার। এই মামলার জন্য ১৮ সেপ্টেম্বরকে পরবর্তী ধার্য তারিখ হিসেবে রাখা হয়েছে।
