বার্সেলোনায় রাশফোর্ড, ৪০ বছর পর কাতালান ক্লাবে ইংলিশ ফুটবলার

আপডেট : ২০ জুলাই ২০২৫, ১০:০১ এএম

তাকে নিয়ে ছিলো বিশাল স্বপ্ন। ইংল্যান্ডের ফুটবলে যাকে নিয়ে এক সময় ভাবা হয়েছিল ‘নতুন রোনালদো’, তিনিই কিনা ২০২১ ইউরো ফাইনালে মিস করা এক পেনাল্টিতে হারিয়ে ফেলেন আত্মবিশ্বাসের জগত। সেই মারকাস রাশফোর্ডই এবার এক নতুন চ্যাপ্টার শুরু করতে যাচ্ছেন বার্সেলোনায়। ৪০ বছর পর কোনো ইংলিশ ফুটবলার কাতালান ক্লাবে—তাও আবার তিন নম্বর হিসেবে!

ইউনাইটেডেরই সন্তান। উইদেন্সো শহরে জন্ম, সেখানে বড় হওয়া, ফ্লেচার মোস রেঞ্জার্সে শুরু, তারপর পুরো কৈশোর কেটেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের একাডেমিতে। ২০১৬-১৭ মৌসুমে মরিনহোর কোচিংয়ে ইউরোপা লিগ জিতে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ট্রফিও জিতেছেন। সেই মৌসুমে করেছিলেন ১১ গোল, ছিলেন ‘গোল্ডেন বয়’ তালিকায় দ্বিতীয়।

ধুলোয় ধরা স্বপ্ন

তবে প্রত্যাশার চাপ যেন হয়ে দাঁড়ায় অভিশাপ। ২০২১ ইউরো ফাইনালে সেই দুঃস্বপ্নের রাতে পেনাল্টি মিস করেন রাশফোর্ড। সাকায়, সানচো ও তার ওপর নেমে আসে বর্ণবাদী আক্রমণের ঝড়। তিন সিংহের লোগো বুকের মাঝে নিয়ে খেলা সেই তরুণ বলে ওঠেন, 'আমি কখনোই ক্ষমা চাইব না আমি কে, বা কোথা থেকে এসেছি, তার জন্য।'

বার্সেলোনায় নতুন সম্ভাবনা

২০২৪/২৫ মৌসুমের শুরুতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে ছিল না তার জায়গা। এরিক টেন হাগের পরিকল্পনায় ছিলেন না। কিন্তু ছেড়ে কথা বলেননি রাশফোর্ড। ভিলা পার্কে উনাই এমেরির অধীনে ফিরে পান আত্মবিশ্বাস—২১ ম্যাচে ১১ গোল ও ৯ অ্যাসিস্ট। সেই পারফরম্যান্সই হয়তো তাকে নিয়ে আসে ক্যাম্প ন্যু-তে, যেখানে ১৯৮০’র দশকের শেষদিকে খেলেছিলেন গ্যারি লিনেকার। এবার লিনেকারের উত্তরসূরি হিসেবে বার্সার লেফট উইংয়ে দেখা যাবে এই ইংলিশ গোলমেশিনকে।

মাঠের বাইরে ‘দেবদূত’

মারকাস র‍্যাশফোর্ডের কাহিনি কেবল মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। করোনার সময়ে দরিদ্র শিশুদের খাবার পৌঁছে দিতে নিজ হাতে প্যাকেট বহন করেছেন। দাতব্য সংস্থায় তার অবদান তাকে বানিয়েছে ‘দ্য সানডে টাইমস’-এর দানশীলতার তালিকায় সবচেয়ে কনিষ্ঠ শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়াবিদ। উইদেন্সোর কপসন স্ট্রিটে তার নামে যে দেয়ালচিত্র রয়েছে, তাতে প্রতিদিন কেউ না কেউ রেখে যায় ফুল, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা।

সমস্যা, সুযোগ আর সম্ভাবনা

বলা হয়, প্রতিভা থাকলেই হয় না, দরকার পরিশ্রম ও শৃঙ্খলা। টেন হাগের ভাষায়, 'জীবনযাপন ঠিক না থাকলে পারফর্ম করা যায় না। ওকে নিজেকে প্রমাণ করতে হবে।' সেই প্রমাণের মঞ্চ এবার বার্সেলোনা। যেখানে আগে খেলেছেন নেইমার, রোনালদিনহো, রিভালদোর মতো কিংবদন্তিরা। আর এখন সেই উইংয়ে পা রাখছেন রাশফোর্ড।

সামনে অনেক পথ, অনেক চ্যালেঞ্জ। কিন্তু একসময় যিনি ছিলেন ইংল্যান্ডের সোনার ছেলে, সেই রাশফোর্ডের পায়ে যদি ফের জ্বলে ওঠে আগুন, তাহলে কাতালান শহর আবারো দেখবে এক নতুন রাজপুত্রের উত্থান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত