ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ব্যর্থ, আকাশসীমা সুরক্ষিত: ইরান সেনাবাহিনী

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫, ০৮:৫৬ এএম

ইরানের সামরিক বাহিনীর অপারেশন বিভাগের উপপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহমুদ মুসাভি জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক ১২ দিনের যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনঃস্থাপন ও বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশটির আকাশসীমার পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এই চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে শত্রুপক্ষের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল আমাদের রাডার ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করা। কিন্তু ইরানের সেনাবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিটের সদস্যরা রাতদিন পাহারা দিয়ে তা প্রতিহত করেছেন।’

মুসাভি দাবি করেন, ‘জায়নবাদী শত্রু কাপুরুষোচিতভাবে ইরানের ভূমিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছিল। যুদ্ধের সময় কিছু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও আমাদের বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প স্থাপন করে পূর্ণ কভারেজ নিশ্চিত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সব প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শত্রু তার উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোও এই যুদ্ধে ইসরায়েলকে সহায়তা করেছে। মাসের পর মাস গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে তারা এই আগ্রাসনে যুক্ত ছিল। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে ইসরায়েলের অপরাধে সহঅপরাধী হিসেবে বিবেচনা করি।’

মুসাভি বলেন, ‘ইরানি জাতি ও সেনাবাহিনী ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পবিত্র প্রতিরোধ যুদ্ধের মতো এবারও আমরা প্রমাণ করেছি—ইরানের বিরুদ্ধে কেউ জয়ী হতে পারবে না।’

গত ১৩ জুন ইসরায়েল ইরানের সামরিক, আবাসিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় টানা ১২ দিন হামলা চালায়। এর মধ্যে ২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নাতাঞ্জ, ফোরদু ও ইসফাহানে তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় পৃথক হামলা চালায়।

জবাবে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর অ্যারোস্পেস ইউনিট ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’র অংশ হিসেবে ইসরায়েলের দখলীকৃত শহরগুলোতে ২২ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান কাতারের আল-উদেইদ মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে।

২৪ জুন কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে এই সংঘাতের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত