টিউলিপের আয়কর নথিতে মিথ্যা তথ্য: দুদক

আপডেট : ২১ জুলাই ২০২৫, ০৯:১২ এএম

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের সাবেক এমপি টিউলিপ সিদ্দিকের ১৩ বছরের আয়কর নথি জব্দ করে তাতে ‘অসঙ্গতি ও মিথ্যা তথ্য’ পাওয়ার কথা বলছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপের নামে ২০০৬–০৭ করবর্ষ থেকে ২০১৮–১৯ করবর্ষ পর্যন্ত দাখিল করা রিটার্ন ও সংশ্লিষ্ট নথি সংযুক্ত রয়েছে জব্দ করা আয়কর নথিতে। এরপর তিনি আর রিটার্ন দাখিল করেননি বলে দুদক জানতে পারে।

এসব আয়কর নথিতে টিউলিপের নাম কোথাও রিজওয়ানা সিদ্দিক, কোথাও রিজওয়ানা সিদ্দিক টিউলিপ, আবার কোথাও টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক লেখা হয়েছে। সইগুলোও সব মেলে না, মনে হয় ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির হাতের লেখা। আবার নামের বানানের সঙ্গে কোনো কোনো সইয়ে লেখা বানানেও অসঙ্গতি দেখা যায়।

যুক্তরাজ্য সরকারের খাতায় টিউলিপের নাম টিউলিপ সিদ্দিক। ব্রিটিশ সরকারি দলিলে তার যে সই দেখা গেছে, তার সঙ্গে দুদকের জব্দ করা আয়কর নথির স্বাক্ষরের মিল নেই।

তবে টিউলিপের বাবার নাম শফিক আহমেদ সিদ্দিক, মায়ের নাম শেখ রেহানা, জন্ম তারিখ ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৮২ সালে এসব ঠিক আছে। আয়কর নথির ছবিও টিউলিপের।

দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, রিজওয়ানা সিদ্দিকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার তদন্ত চলমান। তদন্তের পর্যায়ে দালিলিক প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে অভিযুক্তের যেকোনো নথিপত্র তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে জব্দ করতে পারেন। তিনি বলেন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে তার আয়কর নথিও জব্দ করা হয়। এসব নথি বিশ্লেষণ করে তদন্ত কর্মকর্তা একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করবেন, যা কমিশনের অনুমোদনের পর আদালতে বিচারের জন্য দাখিল করা হবে।

তবে তার একজন মুখপাত্র আগের মতই বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা তথ্য প্রচারের’ অভিযোগ করেছেন।

দুদক জানায়, টিউলিপের আয়কর নথি পর্যালোচনা করে দুদক জানতে পারে, তিনি ২০০৬–০৭ করবর্ষে প্রথম আয়কর নথি খুলেন এবং ২০১৮–১৯ করবর্ষ পর্যন্ত নিয়মিত রিটার্ন দাখিল করেন। ২০১৮–১৯ করবর্ষের পর আর রিটার্ন দাখিল করেননি।

মোট ৮৭টি পৃষ্ঠার এসব নথির মধ্যে ২০০৬–১৫ করবর্ষ পর্যন্ত প্রতিটি রিটার্নে ‘অ্যাডভান্স টুওয়ার্ডস ডেভেলপার্স’ শিরোনামে ৫ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্য রয়েছে।

দুদক তদন্ত করে জানায়, টিউলিপ ঢাকার গুলশানে তার ফ্ল্যাট থাকার বিষয়টি আয়কর নথিতে ‘গোপন’ করে আবাসন কোম্পানিকে অগ্রিম অর্থ পরিশোধের তথ্য দিয়েছেন। যদিও ২০০২ সালের ৩০ অক্টোবরের সাফ কবলা দলিল নম্বর–১৪০৭১ অনুযায়ী, গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিবন্ধন করা ফ্ল্যাটটির মালিক হিসেবে ভোগদখলে ছিলেন তিনি।

গণঅভ্যুত্থানে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ভারতে পালিয়ে যান ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বোন রেহানাও সেদিন তার সঙ্গে যান।

মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে ‘অনিয়ম-দুর্নীতির’ অভিযোগ অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত