মানুষের চন্দ্র অভিযান

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৫, ০৮:১৩ এএম

১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই চাঁদে প্রথমবার হেঁটেছিল মানুষ। মানুষের চাঁদে যাওয়ার ইতিহাস, বর্তমান ও বিতর্ক নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য নাহার হাবীব

চাঁদ, রাতের আকাশের চিরচেনা সেই উজ্জ্বল গোলক। মানব সভ্যতার শুরু থেকেই চাঁদ মানুষকে মুগ্ধ করেছে, জন্ম দিয়েছে অগুনতি কল্পকাহিনি, কবিতা আর গানের। এই কৌতূহল শুধু মুগ্ধতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, ধীরে ধীরে তা পরিণত হয়েছে অদম্য এক অনুসন্ধানে চাঁদে পৌঁছানোর স্বপ্ন। পৌরাণিক উপকথা থেকে শুরু করে আধুনিক মহাকাশ বিজ্ঞান পর্যন্ত, চাঁদ বরাবরই মানুষের আকর্ষণ এবং লক্ষ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

প্রথম যুগ : চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন

প্রাচীনকাল থেকেই বিভিন্ন সভ্যতা চাঁদকে নানাভাবে দেখেছে। গ্রিকরা চাঁদকে দেবী সেলিনির রূপ মনে করত, ভারতীয় পুরাণে চাঁদ ছিল চন্দ্রদেবতা এবং ইসলামিক ঐতিহ্যে চাঁদ ছিল সময় ও ক্যালেন্ডারের এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। এসব সংস্কৃতিতে চাঁদ নিয়ে জন্ম নিয়েছিল অসংখ্য গল্প, যেখানে মানুষ কল্পনা করত কীভাবে তারা চাঁদে পৌঁছাতে পারে।

সময় যত এগিয়েছে, মানুষের চাঁদকে জানার কৌতূহল ততই বেড়েছে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে চাঁদকে নিয়ে যুক্তিতর্কের পরিমাণ বেড়েছে, কমেছে কুসংস্কার। সাহিত্য ও সায়েন্স ফিকশন এই স্বপ্নকে আরও উসকে দিয়েছে। জুল ভার্নের ‘From the Earth to the Moon’ এবং এইচ. জি. ওয়েলসের ‘The First Men in the Moon’ এর মতো কালজয়ী উপন্যাসগুলো মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল চাঁদে যাওয়ার। এসব গল্প কেবল বিনোদনই দেয়নি, বরং বিজ্ঞানীদের নতুন কিছু ভাবার খোরাক জুগিয়েছে। তবে এই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কালে। নাৎসি জার্মানির ভি-টু রকেটের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মহাকাশ যাত্রার ভিত্তি স্থাপন করে। যদিও এই প্রযুক্তি প্রাথমিকভাবে যুদ্ধের জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল, এর উদ্ভাবনই ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণার দরজা খুলে দেয়।

স্পেস রেস

যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে তীব্র এক প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যা ‘মহাকাশ প্রতিযোগিতা’ নামে পরিচিত। এই প্রতিযোগিতা ছিল কেবল প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ নয়, বরং আদর্শগত আধিপত্যের লড়াই। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৫৭ সালে স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণের মাধ্যমে প্রথম মহাকাশে কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠায় এবং ১৯৬১ সালে ইউরি গ্যাগারিনকে মহাকাশে পাঠিয়ে প্রথম মানববাহী মহাকাশ যাত্রার রেকর্ড গড়ে। এই সাফল্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দারুণভাবে উদ্দীপিত করে। প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি ১৯৬১ সালে ঘোষণা করেন যে, এই দশকের মধ্যেই আমেরিকা চাঁদে মানুষ পাঠাবে এবং নিরাপদে তাদের ফিরিয়ে আনবে। এই ঘোষণা অ্যাপোলো প্রোগ্রামের সূচনা করে। এটি ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী এবং ব্যয়বহুল প্রযুক্তিগত প্রকল্পগুলোর মধ্যে একটি। অ্যাপোলো-১১ মিশন ছিল এই স্বপ্নের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন। ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্যাটর্ন-৫ রকেটে চড়ে যাত্রা শুরু করেন নীল আর্মস্ট্রং, বাজ অলড্রিন এবং মাইকেল কলিন্স। ২০ জুলাই, ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো-১১-এর লুনার মডিউল ‘ঈগল’ চাঁদের ‘শান্ত সাগর’ (Sea of Tranquility) নামক স্থানে অবতরণ করে। কিছু ঘণ্টা পরে, নীল আর্মস্ট্রং মানবজাতির ইতিহাসে প্রথমবার চাঁদের বুকে পা রাখেন। তার ঐতিহাসিক উক্তি, ‘Thats one small step for man, one giant leap for mankind’ (এটি একজন মানুষের জন্য ছোট পদক্ষেপ, কিন্তু মানবজাতির জন্য বিশাল এক ঘটনা) আজও মানুষের মনে অমর হয়ে আছে। বাজ অলড্রিন তার কিছুক্ষণ পরেই চাঁদে নামেন।

এই অভিযানের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ছিল বিশাল। বিশাল স্যাটর্ন-৫ রকেট, জটিল লুনার মডিউল এবং অত্যন্ত নির্ভুল নেভিগেশন সিস্টেম সবকিছুই ছিল সে সময়ের সেরা প্রযুক্তির উদাহরণ। অ্যাপোলো-১১-এর পর আরও কয়েকটি অ্যাপোলো মিশন চাঁদে গিয়েছিল এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য ও নমুনা সংগ্রহ করেছিল। তবে আর্থিক চাপ, জনগণের আগ্রহ হ্রাস এবং ভিয়েতনামের যুদ্ধের কারণে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭-এর পর অ্যাপোলো প্রোগ্রাম বন্ধ হয়ে যায়।

চন্দ্র অভিযানের প্রযুক্তি 

চাঁদ অভিযান কেবল অ্যাডভেঞ্চার ছিল না, এটি ছিল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক বিশাল প্রদর্শনী। এই অভিযানের মাধ্যমে রকেট প্রযুক্তি, কম্পিউটার সিস্টেম এবং জীবন-সহায়ক ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক উন্নতি সাধিত হয়। রকেট ইঞ্জিনের ডিজাইন থেকে শুরু করে জটিল নেভিগেশন সফ্টওয়্যার, সবকিছুই ছিল সে সময়ের আধুনিকতম প্রযুক্তি। চাঁদ থেকে আনা পাথরের নমুনাগুলো চাঁদের ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করে। বিজ্ঞানীরা জানতে পারেন চাঁদের উৎপত্তি, এর গঠন এবং সৌরজগতের বিবর্তন সম্পর্কে অনেক নতুন তথ্য। মানবদেহের মহাকাশে আচরণ নিয়েও এই অভিযানগুলোতে ব্যাপক গবেষণা হয়, যা ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ যাত্রার জন্য অপরিহার্য ছিল।

বর্তমান গবেষণা ও অভিযান

অ্যাপোলো মিশনের পর দীর্ঘ সময় চাঁদে মানববিহীন অভিযানই চলেছে। তবে ২১ শতকে এসে চাঁদে নতুন করে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এবার আর কেবল দুই পরাশক্তির প্রতিযোগিতা নয়, অনেক দেশ এবং বেসরকারি সংস্থাও চাঁদকে নিয়ে গবেষণা ও পরিকল্পনা করছে। নাসা-এর আর্টেমিস প্রোগ্রাম হলো মানুষকে পুনরায় চাঁদে পাঠানোর এক উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ২০২৫ সালের মধ্যে প্রথম নারী এবং প্রথম অশ্বেতাঙ্গ মহাকাশচারীকে চাঁদে পাঠানো। আর্টেমিস মিশনগুলো অ্যাপোলোর চেয়ে ভিন্ন হবে, কারণ এবার দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যেমন SpaceX তাদের স্টারশিপ রকেটের মাধ্যমে চাঁদে এবং মঙ্গল গ্রহে মানুষ পাঠানোর স্বপ্ন দেখছে। তাদের এই উদ্যোগ মহাকাশ যাত্রাকে আরও সাশ্রয়ী এবং সহজলভ্য করার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। এশিয়ার দেশগুলোও চাঁদ গবেষণায় পিছিয়ে নেই। চীনের চ্যাং’ই (Change) প্রোগ্রাম চাঁদের দূরবর্তী অংশে সফলভাবে রোভার পাঠিয়েছে এবং নমুনা সংগ্রহ করেছে, যা মহাকাশ গবেষণায় চীনের সক্ষমতার এক বিশাল প্রমাণ। ভারত (ISRO)  তাদের চন্দ্রযান মিশনগুলোর মাধ্যমে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে রোভার অবতরণ করিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে। এছাড়াও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA), জাপান (JAXA) এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোও চাঁদের কক্ষপথ এবং পৃষ্ঠ গবেষণায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। শুধু চাঁদে যাওয়া নয়, এখন মানুষের পরিকল্পনা আরও বড় চাঁদে স্থায়ীভাবে বসবাস করা। বিজ্ঞানীরা চাঁদের পৃষ্ঠে স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করছেন। থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাঁদের মাটি থেকেই বাসস্থান তৈরির ধারণাটি বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এটি একদিকে নির্মাণ খরচ কমাবে, অন্যদিকে পৃথিবী থেকে নির্মাণ সামগ্রী পাঠানোর ঝামেলাও কমাবে। চাঁদকে কেবল একটি গন্তব্য হিসেবে দেখা হচ্ছে না, বরং এটি মঙ্গল অভিযান বা গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য একটি ‘স্টেজিং গ্রাউন্ড’ বা মধ্যবর্তী স্টেশন হিসেবে কাজ করতে পারে। চাঁদের নিম্ন মাধ্যাকর্ষণ বল এবং পানি বরফের সম্ভাব্য মজুদ ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ যাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক

চাঁদে মানুষের আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রশ্নও সামনে আসছে। চাঁদের সম্পদের মালিকানা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। চাঁদের হিলিয়াম-৩ (Helium-৩)  নামের একটি আইসোটোপ ভবিষ্যতে পারমাণবিক ফিউশন চুল্লির জন্য একটি পরিষ্কার এবং শক্তিশালী জ্বালানি উৎস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সম্পদ কার হবে, এবং কীভাবে এর ব্যবহার নিয়ন্ত্রিত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরে আলোচনা চলছে।

মহাকাশ হয়ে উঠেছে মহাকাশ রাজনীতি (Space Politics)-এর এক নতুন ক্ষেত্র, যেখানে পরাশক্তিগুলোর মধ্যে নতুন করে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মহাকাশে আধিপত্য বিস্তার কেবল প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের বিষয় নয়, এটি ভূ-রাজনৈতিক ক্ষমতা এবং প্রভাবেরও প্রতীক।

সংস্কৃতি, কল্পনা ও চাঁদ

চাঁদ কেবল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিষয় নয়, এটি মানুষের সংস্কৃতি ও কল্পনার অবিচ্ছেদ্য অংশ। চাঁদ নিয়ে লেখা হয়েছে অসংখ্য কবিতা, গান, রচিত হয়েছে চলচ্চিত্র। মানুষ সত্যি সত্যি চাঁদে গেছে কি না এ নিয়েও রয়েছে বিতর্ক এবং কন্সপিরেসি থিওরি। চাঁদে মানুষ আদৌ গিয়েছিল কি না এ প্রশ্ন এখনো বহু মানুষের কৌতূহলের বিষয়। ১৯৬৯ সালে নীল আর্মস্ট্রং চাঁদের মাটিতে পা রাখার পর থেকে একদল লোকের সন্দেহ শুরু হয়, তারা বলে পুরো ব্যাপারটাই নাকি একটা সাজানো নাটক! কেউ বলেছে, ওটা নাকি হলিউডে স্টুডিও বানিয়ে শুট করা হয়েছিল; কেউ বা বলেছে চাঁদে বাতাস নেই, তাহলে পতাকা কাঁপছিল কেন? এইসব সন্দেহের যুক্তিগুলো একটু খতিয়ে দেখলেই বোঝা যায়, সেগুলোর বেশিরভাগই ভুল ধারণা বা অপূর্ণ তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। যেমন, একটা প্রচলিত দাবি হলো ছবিতে ছায়াগুলো একেক দিকে যাচ্ছে, তাই ওটা স্টুডিওর লাইটিং। কিন্তু চাঁদের মাটি অসমান, ফলে ছায়া তির্যকভাবে পড়ে, সেটা একদিকেই যাবে এমন নয়। কেউ কেউ বলে, আকাশে কোনো তারা নেই, তাই সেট ব্যাকগ্রাউন্ড! অথচ মহাকাশে ছবি তোলার সময় ক্যামেরা যেহেতু খুব অল্প আলো গ্রহণ করে (এক্সপোজার কম), তাই তারার মৃদু আলো ক্যামেরায় ওঠেই না। সবচেয়ে জনপ্রিয় একটি ‘প্রমাণ’ হলো পতাকা নড়ছে, অথচ চাঁদে তো বাতাস নেই! আসলে, মহাকাশচারীরা যখন পতাকাটি মাটিতে গেঁথে দিচ্ছিলেন, তখন কম্পনে কাপড়টা কিছুটা নড়ে। বাতাস না থাকায় তা ধীরে ধীরে স্থির হয়, এবং ছবিতে সেটাই মনে হয় যেন বাতাসে পতপত করছে। আরও বলা হয়, সে সময়ের কম্পিউটার এখনকার মোবাইল থেকেও দুর্বল ছিল তাহলে এত জটিল অভিযান চালানো কীভাবে সম্ভব হলো? এর উত্তরও সহজ : কম্পিউটারের ক্ষমতা না দেখে দেখতে হবে তার কাজ। অ্যাপোলো প্রোগ্রামের কম্পিউটার ছিল নির্দিষ্ট কিছু কাজের জন্য বানানো এবং একে ঘিরে পুরো মিশনে সহায়তা করতেন অসংখ্য বিজ্ঞানী, গাণিতিক ও প্রযুক্তিবিদ। ভুলে গেলে চলবে না, তখনো মানুষ গণনার মাধ্যমে রকেট উড়াত।

আর যে কথা প্রায়ই বলা হয় নাসা নাকি মিশনের অনেক ভিডিও হারিয়ে ফেলেছে, মানে তাদের অনেক কিছু লুকানোর ছিল। বাস্তবে, সে সময় ভিডিও রেকর্ড করার টেপগুলো পুনরায় ব্যবহারের জন্য মুছে ফেলা হতো। খরচ বাঁচাতে এমনটা করাই ছিল নিয়ম। তবে অ্যাপোলো মিশনের অসংখ্য ছবি, রেকর্ড, লাইভ সম্প্রচার এখনো সংরক্ষিত রয়েছে কোনোটা স্মিথসোনিয়ান মিউজিয়ামে, কোনোটা নাসা-র ডাটাবেইসে। এইসব যুক্তি খণ্ডন করলে বোঝা যায়, ষড়যন্ত্র থিওরিগুলো বেশিরভাগই খাপছাড়া অনুমান, ভুল তথ্য আর জনপ্রিয় সন্দেহের ফাঁদ। চাঁদে যাওয়ার ঘটনাটি ছিল বিজ্ঞানের, সাহসের এবং মানুষের সীমা টপকে যাওয়ার এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত