এসিসির বৈঠক অনিশ্চিত, ঢাকায় শূন্য টেবিলের শঙ্কা

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৫, ১১:৫৪ এএম

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। আগামী ২৪ ও ২৫ জুলাই ঢাকায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আদৌ অর্থবহ কোনো পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে কি না, সে প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, আয়োজক হিসেবে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে তারা। তবে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সদস্য দেশগুলোর অনুপস্থিতি এই আয়োজনকে কার্যত অকার্যকর করে দিতে পারে।

বিসিবির এক কর্মকর্তা বলেন, 'আমরা প্রস্তুত। কিন্তু কারা আসবে, সেটা বলার এখতিয়ার আমাদের নেই। এসিসি এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ঢাকায় উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু বাকিরা আসবেন কি না, তা নিশ্চিত করেনি এসিসি।'

এসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বৈধভাবে এজিএম আয়োজনের জন্য অন্তত তিনটি টেস্ট খেলুড়ে দেশ থাকতে হবে। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ — এবং আরও ১০টি পূর্ণ ও সহযোগী সদস্য দেশের উপস্থিতি প্রয়োজন। কিন্তু আপাতত পাকিস্তান ও বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো বড় সদস্য দেশ বৈঠকে অংশ নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি।

ভারত শুরু থেকেই ঢাকায় এই বৈঠক আয়োজনের বিরোধিতা করে আসছে। শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)-এর অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি কূটনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারত তাদের আগস্টে নির্ধারিত বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে বলেও জানা গেছে।

সহযোগী দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র। নেপাল, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, কুয়েত ও ওমানের মতো দেশগুলোর কেউই ঢাকায় না আসার সম্ভাবনা প্রবল, যা কোরাম পূরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এসিসি সভাপতি ও পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি সম্প্রতি সিঙ্গাপুরে আইসিসির বার্ষিক সম্মেলন এড়িয়ে আফগানিস্তানের সমর্থন পেতে কাবুল সফর করেছেন বলে জানা গেছে। তবে এসিসি সূত্রমতে, আফগানিস্তান ইতোমধ্যে ভারত নেতৃত্বাধীন ব্লককে আশ্বস্ত করেছে যে তারা ঢাকার বৈঠকে অংশ নেবে না।

এই অবস্থায় বিসিসিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ঢাকায় যদি সম্মতির বাইরে এই বৈঠক হয়, তবে তারা শুধু এজিএম বয়কটই করবে না, বরং সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় এশিয়া কাপ থেকেও সরে দাঁড়াতে পারে।

এশিয়া কাপের নির্ধারিত আয়োজক ভারত। ভারতের অনুপস্থিতি শুধু রাজনৈতিক বার্তাই নয়, এসিসির আর্থিক স্বার্থেও বড় ধাক্কা। দর্শকসংখ্যা ও বাণিজ্যিক দিক দিয়ে ভারতে ক্রিকেটের প্রভাব অনস্বীকার্য।

এই অচলাবস্থা সম্প্রতি বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত ‘লেজেন্ডস ম্যাচ’-এর ঘটনাও মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে ভারতের সাবেক তারকারা শাহিদ আফ্রিদির সঙ্গে একই মঞ্চে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজনৈতিক বিবেচনায়।

এসিসির ভবিষ্যৎ, এশিয়া কাপের ভাগ্য, এমনকি আঞ্চলিক কূটনৈতিক ভারসাম্য— সবকিছুই নির্ভর করছে ঢাকায় সামনের দুই দিনের ওপর। বিসিবি প্রস্তুত থাকলেও, হয়তো তাদের সেই প্রস্তুতির সামনে থাকবে কেবল ফাঁকা চেয়ার আর অনুপস্থিত মুখ।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত