ওভাল যেন ফিরে যাচ্ছে স্মৃতির পাতায়। ক্রিকেট ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের নাম গ্রাহাম থর্প। সেই থর্পের জন্মদিনে, ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি উৎসর্গ করা হচ্ছে তাকে—এই আয়োজনের নাম ‘ডে ফর থর্পি’।
ইংল্যান্ড ও ভারতের মধ্যকার চলমান অ্যান্ডারসন-টেন্ডুলকার ট্রফির ওভাল টেস্টে দ্বিতীয় দিনটি পালিত হবে প্রয়াত ইংলিশ ব্যাটিং কিংবদন্তির স্মরণে। নিজ মাঠ, প্রিয় সারে ক্লাব এবং ওভাল স্টেডিয়াম—থর্পের জীবনের সঙ্গে যা ছিল অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এবার সেই আঙিনাতেই হবে তার স্মরণ।
থর্পের সতীর্থ ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা যাকে ভালোবেসে ডাকতেন ‘থর্পি’, তার ৫৬তম জন্মদিনে আয়োজনটি রাখা হয়েছে। তবে তিনি আজ নেই। ২০২২ সালের ৪ আগস্ট ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা যান তিনি। পরে পরিবার জানায়, দীর্ঘদিনের মানসিক অবসাদ ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই শেষে আত্মহত্যা করেছিলেন এই ব্যাটিং শিল্পী।
তাকে স্মরণ করাই শুধু নয়, ‘ডে ফর থর্পি’ আয়োজনের মূল বার্তা মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি সচেতনতা গড়ে তোলা। সেই লক্ষ্যে যুক্ত হয়েছে ব্রিটিশ মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা ‘মাইন্ড’। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগের পাশাপাশি আয়োজনটিতে থাকবে নানা সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
বিশেষভাবে নকশা করা একটি হেডব্যান্ড বিক্রি করা হবে এই উপলক্ষে, যার ডিজাইনে যুক্ত ছিলেন থর্পের স্ত্রী অ্যামান্ডা ও দুই কন্যা কিটি ও অ্যামা। হেডব্যান্ড বিক্রির আয় যাবে ‘মাইন্ড’-এর তহবিলে।
হেডব্যান্ড—যা ছিল থর্পের প্রতীক। ক্যারিয়ারজুড়েই মাথায় এই পট্টি বেঁধে মাঠে নামতেন তিনি। তাই এই পণ্যেই যেন ফুটে উঠেছে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। আয়কৃত অর্থের একটি অংশ যাবে ‘থর্পি’স ব্যাট অ্যান্ড চ্যাট’ নামের আরেকটি চ্যারিটি সংস্থায়, যারা ক্রিকেটের মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক সহায়তা দিয়ে থাকে।
থর্পের স্ত্রী অ্যামান্ডা জানালেন বিবিসিকে, 'এই দিনটি হবে খুবই আবেগঘন। আমরা তাকে উদযাপন করতে চাই, স্মরণ করতে চাই তার আলোকোজ্জ্বল উপস্থিতিকে। সেই আলো আজও আমাদের সঙ্গে রয়েছে।'
মেয়ে কিটি চান, আত্মহত্যা ও মানসিক কষ্টের মতো বিষয়গুলো নিয়ে সমাজে যে লুকোচুরি ও সংকোচ রয়েছে, সেটি যেন ভাঙে। তার ভাষায়, 'মৃত্যু, বেদনা—এসব নিয়ে কেউ তেমন কথা বলতে চায় না। অথচ এগুলো জীবনের অংশ। আত্মহত্যা নিয়ে যে ট্যাবু তৈরি হয়েছে, তা ভাঙা জরুরি। আমরা চাই, মানুষ সাহসিকতার সঙ্গে এসব নিয়ে কথা বলুক। এজন্যই আমরা ‘মাইন্ড’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছি।'
ক্রিকেটার থর্পের ক্যারিয়ারও ছিল উজ্জ্বল। ১৯৯৩ সালে অভিষেক টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ বাঁচানো সেঞ্চুরিতেই জানান দিয়েছিলেন নিজের সামর্থ্য। এরপর এক যুগ ধরে ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডারের ভরসার নাম হয়ে ওঠেন।
১০০ টেস্টে ১৬ সেঞ্চুরিতে ৪৪.৬৬ গড়ে করেন ৬,৭৪৪ রান। ওয়ানডেতে ৮২ ম্যাচে ছিল প্রায় আড়াই হাজার রান, অংশ নেন ১৯৯৬ ও ১৯৯৯ বিশ্বকাপেও। অ্যাশেজে তিনটি সেঞ্চুরি, ক্রাইস্টচার্চে ২৩১ বলে ডাবল সেঞ্চুরি—সব মিলে থর্প হয়ে ওঠেন ইংল্যান্ড ক্রিকেটের গর্ব।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তার রানের সংগ্রহ প্রায় ২২ হাজার, এর মধ্যে সারের হয়েই করেছেন ১২ হাজারের বেশি।
খেলা শেষে কোচিংয়ে যুক্ত হন। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যাটিং কোচ হিসেবে কাজ শুরুর পর তিনি ছিলেন সারে, ইংল্যান্ড ‘এ’ দল এবং পরে জাতীয় দলের সহকারী কোচ হিসেবে। ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ী ইংল্যান্ড দলের সঙ্গেও ছিলেন থর্প।
জো রুটসহ অনেক তরুণ ক্রিকেটারের ক্যারিয়ার গড়ায় তার বড় অবদান রয়েছে। ২০২২ সালে আফগানিস্তান দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেও অসুস্থতার কারণে আর কাজে যোগ দেওয়া হয়নি।
ক্রিকেট, কোচিং ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টার মাধ্যমে থর্প রেখে গেছেন অমলিন এক উত্তরাধিকার। সেই মানুষটিকে স্মরণ করেই আজকের আয়োজন—‘ডে ফর থর্পি’।
ইংল্যান্ডে ফুটবল ক্ষমতার ছকে বড় রদবদল, সমর্থকদের চোখে ‘বিপ্লবের শুরু’
অনূর্ধ্ব-২০ দলকেও এশিয়ান কাপে নিতে চান কোচ বাটলার