‘ইরানের নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়েছে’

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২৫, ০৮:৫৪ এএম

ইসরায়েলি হামলায় নিজেদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়া ও শতাধিক ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার ধ্বংস হওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইরানের বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাঈদ লেইলাজ।

‘ইকতেসাদ অনলাইন’-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, গত মাসে ইসরায়েলের হামলায় ইরান পুরোপুরি প্রস্তুতিহীন ছিল এবং এই হামলা দেশটির গোটা নিরাপত্তা কাঠামোর ভয়াবহ দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে।

লেইলাজ বলেন, ‘আমরা দেখেছি, ১২০ থেকে ১৫০টি রকেট লাঞ্চার চালুর সাথেই বিস্ফোরিত হয়ে যায় এবং একইসাথে ইরানের পুরো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হ্যাক হয়ে পড়ে।’

সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাইকেল প্রেজেন্টের মতে, বাস্তব ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সরকারি তথ্যের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যখন কেউ বলে ১২০ থেকে ১৫০টি ক্ষেপণাস্ত্র লাঞ্চার ধ্বংস হয়েছে, তখন সেটা বিশাল ব্যাপার। তবে প্রকৃত সংখ্যা সম্ভবত আরও অনেক বেশি।’

লেইলাজ ইরানের গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনীর ওপর আস্থাহীনতার কথা জানিয়ে বলেন, ‘আমি আর কোনো সামরিক বা গোয়েন্দা কর্মকর্তার ওপর আস্থা রাখতে পারি না—সে রেভল্যুশনারি গার্ড হোক, গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় হোক কিংবা সেনাবাহিনী—যতক্ষণ না তারা বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন।’

তাঁর মতে, ‘নিরাপত্তা বিবেচনায় বলা যায়, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান কার্যত হাঁটু গেড়ে বসে পড়েছে।’

গত মাসে টানা ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধে ইসরায়েল ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বহু শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যা করে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাকেরি, আইআরজিসির প্রধান হোসেইন সালামি, এরোস্পেস ইউনিট প্রধান আমির আলি হাজিজাদেহ এবং অপারেশনস বিভাগের ডেপুটি প্রধান মেহদি রাব্বানি।

ইরান সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, ওই যুদ্ধে মোট ১ হাজার ৬২ জন ইরানি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭৮৬ জন সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং ২৭৬ জন বেসামরিক নাগরিক। অপরদিকে, ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে প্রাণ হারান ২৭ জন।

ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুনর্গঠনের প্রসঙ্গে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা প্রেজেন্ট বলেন, ইরান যেসব রুশ-নির্ভর সিস্টেম ব্যবহার করে, সেগুলো ইসরায়েলের কাছে সহজেই হ্যাকযোগ্য। ফলে একই প্রযুক্তির পুনঃপ্রয়োগ ইসরায়েলের জন্য আবারও ধ্বংসযোগ্য হয়ে থাকবে।

লেইলাজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার আগে সরকারের উচিত নিজেদের জনগণের সঙ্গে সমঝোতায় আসা। তাঁর ভাষায়, ‘এই ১২ দিনের যুদ্ধে দেশটির জনগণ শাসনব্যবস্থা নিয়ে হতাশ হলেও চুপচাপভাবে ভূমি রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলেন। এটা প্রমাণ করে, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও সমঝোতার সুযোগ আছে।’

এদিকে হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এখনও তেহরানের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী। চলতি সপ্তাহের শুক্রবার ইরান ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক আলোচনায় বসতে যাচ্ছে।

সূত্র: ইরান ইন্টারন্যাশনাল

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত