প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের স্বজনপ্রীতির কারণে বর্তমান স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের কোনো কাজে আসেন না দাবি করে তার গ্রহণ করা বেতন সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করেছেন এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
আজ বুধবার চাঁদপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এনসিপির পদযাত্রা উপলক্ষে সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমাদের একজন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা আছে, আপনারা তাকে চিনেন? তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভাই-ব্রাদার কোটায় উপদেষ্টা হয়েছেন। ড. ইউনূসের স্বজনপ্রীতির সবচেয়ে বড় উদাহরণ এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা। সব সময় বলে আসছি এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টার কোনো প্রয়োজন নাই। আপনারা উনার কোনো একটিভিটি দেখেছেন? তিনি যে বেতন নেন তা হারাম হবে। তিনি সরকারি চাকায় যে গাড়িতে চড়েন তা জনগণের সঙ্গে বেইমানি। এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা কোনো কাজের না। তিনি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বোঝেন না, চিকিৎসা বোঝেন না।
তিনি আরও বলেন, একমাত্র যোগ্যতা তিনি গ্রামীণ ব্যাংকে ছিলেন এবং ড. মো. ইউনূসের খুব কাছের মানুষ। এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা লইয়া আমরা কি করিব? এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নিজের চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। এই স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে যে বেতন-ভাতা দেওয়া হয়েছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে তার অনতিবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
এর আগে বুধবার সকাল ১০টায় সার্কিট হাউসে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
মাইলস্টোন ট্রাজেডির কথা উল্লেখ্য করে সারজিস আমল সাংবাদিকদের বলেন, আহতরা হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। তাদের কতটা কষ্ট হচ্ছে এটা আসলে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। আমরা চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। লোক দেখানো তদন্ত নয়। বাংলাদেশকে খুনি হাসিনা ও তার দোসররা প্রতিটা সেক্টরে লুটপাট করে কতটা অন্তঃসারশূন্য করেছে এগুলো তদন্ত করে বের করা হোক। কিভাবে এমন যান্ত্রিক ত্রুটি হয় অসংখ্য জীবন হারাতে হয়, সামনে আরো কত হারাতে হবে আমরা জানি না। আমরা এমনটা চাই না।
তিনি আরও বলেন, ১ জুলাই শেষ হয়ে আরেক জুলাই এসেছে। কিন্তু আমরা এখনও বিচারের কোন অগ্রগতি দেখতে পাচ্ছি না। যে কারণে দেশের ছাত্র জনতা জীবন দিল। সেই সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত আমরা যদি অন্য কিছু চিন্তা করি, তাহলে শহীদের রক্তের সঙ্গে বেঈমানি হবে।
এ সময় নাসীরুদ্দীন ও সারজিসদের কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন শহীদ পরিবারের সদস্যরা। জুলাই আন্দোলনের ভয়াল সময়ের স্মৃতি তুলে ধরেন। এ সময় তারা তাদের স্বজন হত্যার বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পন্নের দাবি করেন। স্বজন হারিয়ে তাদের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন নেতৃবৃন্দের কাছে।
পরে তারা কুমিল্লা উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। যাওয়ার পথে হাজীগঞ্জে শহীদ আজাদ চত্ত্বর উদ্বোধন ও শাহরাস্তি উপজেলার দোয়াভাঙ্গায় পথসভা করেন। এ সময় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক-হুমায়ারা নূর, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব মো, মিরাজ মিয়া, যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মাহবুব আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় তিন ধাপ এগোল বাংলাদেশ
ফরিদপুরে ইজিবাইকের চাপায় শিশুর মৃত্যু