পাবনা গণপূর্ত অধিদপ্তরে দরপত্র ছাড়াই ঠিকাদারি কাজ প্রদানের অভিযোগ উঠেছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে গণপূর্ত বিভাগ পাবনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনের অপসারণ দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে গণপূর্ত ভবনের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ঠিকাদাররা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ঠিকাদাররা জানান, গণপূর্ত অফিসের ঠিকাদারী কাজ পেতে হলে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আফসার উদ্দিনকে ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয়। নয়তো নানা অজুহাতে হয়রানির শিকার হতে হয়। সম্প্রতি কোনও ধরনের দরপত্র আহ্বান ছাড়াই আঞ্জু ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ১৬ লাখ টাকার কাজের অনুমোদন দিয়েছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। ঠিকাদার ওয়ার্ক অর্ডার ছাড়াই সাইট এলাকায় মালামাল আনতে শুরু করছে। প্রকাশ্য দুর্নীতির প্রতিবাদে বাধ্য হয়ে ঠিকাদাররা রাস্তায় নেমেছেন। অনতিবিলম্বে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর অপসারণ দাবি করেন বিক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা।
মানববন্ধনে রাজা কনস্ট্রাকশনের মালিক রাজা মালিথা, মোল্লা এন্টারপ্রাইজের আরিফ হোসেনসহ বিভিন্ন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীরা অংশ নেন।
রাজা কনস্ট্রাকশনের মালিক রাজা মালিথা বলেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর স্বেচ্ছাচারিতায় গণপূর্ত কার্যালয় অনিয়ম দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। নীতিবহির্ভূতভাবে তিনি নিজ মনোনীত লোকজনকে গোপন চুক্তিতে কাজ দিয়ে দেন। আমরা প্রতিবাদ করার পরও তিনি একই কাজ করেছেন। এই অনিয়ম আমরা যেকোনও মূল্যে প্রতিহত করব।
মোল্লা এন্টারপ্রাইজের মালিক আরিফ হোসেন বলেন, পাবনা গণপূর্তে এখনও স্বৈরাচারের সহযোগী দের আধিপত্য। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দরপত্র ছাড়াই বিতর্কিত এক ঠিকাদারকে কাজ দিয়েছেন। তাকে ৫ শতাংশ কমিশন না দিলে কাজ পাওয়া যাবে না বলে তিনি সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন। আমরা এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অপসারণ চাই।
গণপূর্ত অফিস সূত্র জানায়, নির্বাহী প্রকৌশলীর নিয়ন্ত্রণাধীন পরিদর্শন বাংলোর একটি কক্ষ মেরামতের জন্য ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন সম্প্রতি অনুমোদন হয়। কিন্তু ঐ কাজের জন্য কোন টেন্ডার হয়নি। মৌখিকভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে দাবি করে বুধবার দুপুরে কাজ করার মালামাল আনতে শুরু করেন আন্জু ট্রেডার্সের মালিক আকাশ হোসেন। বিষয়টি জানতে পেরে অন্য ঠিকাদাররা আকাশকে বাধা দিলে আকাশের সঙ্গে ঠিকাদারদের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে ঠিকাদারদের দু’পক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার ঠিকাদারদের একটি পক্ষ বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে।
পাবনা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ কবির বলেন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে আমি টেন্ডার ছাড়া কাজ দিতে নিষেধ করেছিলাম। তারপরও তিনি দিয়েছেন। এমন ঘটনা কেন ঘটেছে তিনিই বলতে পারবেন।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন বলেন, প্রাক্কলন অনুমোদনের পর আমার আর কোনও কাজ নেই। কাউকে কাজ দেওয়ার এখতিয়ারও আমার নেই। এসব অভিযোগ উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
রিয়াল মাদ্রিদের ‘১০ নম্বর’ এখন এমবাপ্পের
এনসিপির কোন নেতা-কর্মীর দিকে চোখ তুলে তাকাবেন না: হাসনাত