থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়ার সামরিক সংঘাতে নিহত বেড়ে ১২

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৫, ০৫:৪৭ পিএম

থাইল্যান্ডে কাম্বোডিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় সামরিক সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ১২ জন হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১১ বেসামরিক ও একজন সেনাসদস্য রয়েছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

থাই স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমসাক থেপসুথিনের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে রয়টার্স।

মন্ত্রী বলেন, কাম্বোডিয়ার কর্মকাণ্ডকে—যার মধ্যে একটি থাই হাসপাতালে হামলাও রয়েছে— যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত। তিনি নমপেনকে ‘সহিংসতা বন্ধ করার’ আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার ভোরে থাইল্যান্ডের ওদ্দার মেঞ্চি প্রদেশে কাম্বোডিয়া-থাই সীমান্তে এই সশস্ত্র সংঘর্ষ শুরু হয়।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে শতাব্দীরও বেশি পুরনো বিরোধে এই সংঘর্ষ নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

থাই সেনাবাহিনীর মতে, সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কাম্বোডিয়া এখনও কোনো হতাহতের বিষয় নিশ্চিত করেনি।

বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় পক্ষ গোলাগুলিতে জড়ায়। উভয় দেশই একে অপরকে সংঘর্ষ শুরু করার জন্য দায়ী করেছে। থাইল্যান্ডের অভিযোগ, কাম্বোডিয়া রকেট হামলা চালিয়েছে, যার জবাবে ব্যাংকক কাম্বোডিয়ার সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়।

থাইল্যান্ড তার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে, অন্যদিকে কাম্বোডিয়া থাইল্যান্ডের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করেছে এবং থাই সেনাবাহিনীকে ‘অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের’ জন্য অভিযুক্ত করেছে।

উভয় দেশই সীমান্তবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়তে বলেছে। থাইল্যান্ড ইতোমধ্যে ৪০ হাজার বেসামরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে।

থাই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সুরিন, উবন রাচাথানি ও শ্রীসাকেত প্রদেশে সংঘর্ষে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক, যার মধ্যে একটি আট বছর বয়সী শিশু এবং একজন ১৫ বছর বয়সী কিশোর রয়েছে, এবং একজন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

ঘটনার বিষয়ে থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়া ভিন্ন ভিন্ন বিবরণ দিয়েছে।

থাইল্যান্ড দাবি করছে, কাম্বোডিয়ার সেনাবাহিনী সীমান্তে থাই সেনাদের ওপর নজরদারির জন্য ড্রোন মোতায়েন করলে সংঘর্ষের সূচনা হয়।

অন্যদিকে, কাম্বোডিয়া বলছে, থাই সেনারা সীমান্তের কাছে অবস্থিত একটি খেমার-হিন্দু মন্দিরের দিকে অগ্রসর হয়ে পূর্বের এক চুক্তি লঙ্ঘন করায় সংঘর্ষ শুরু হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত