জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় এখনও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পটি পাস না হওয়ায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের পদত্যাগ দাবী করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
২৪ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫ টার দিকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের দাবীতে শিক্ষার্থীরা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস-৩ এর শহীদ মিনার চত্বরে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।
এ সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র প্রতিনিধিরা বক্তব্য দানকালে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের পদত্যাগ দাবী করেন। তাদের বক্তব্য পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় ও পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান চলতি বছরের ১৬ জুন শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রামকান্তপুর মৌজার বুড়ি পোতাজিয়ায় সরেজমিনে গিয়ে ক্যাম্পাসের নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন ও এ সংক্রান্ত লিখিত প্রতিবেদন জমা দেন।
এরপর একনেকের ৩টি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অথচ রহস্যজনক কারণে এখনও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পটি পাস হয়নি। এমন কি তিনি তার প্রতিবেদনে কি রিখেছেন সেটিও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উৎকণ্ঠার মধ্যে আছেন।
তারা বলেন, ওই প্রতিবেদনে তিনি কী লিখলেন, আমরা তা জানি না। বিষয়টি আমাদের জানানো হলে আমরা তার সমাধান করতে পারতাম।
বর্তমান অন্তর্বতী সরকার ছাত্র-জনতার রক্তাক্ত গণ-অভূত্থানের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত সরকার। স্বাভাবিকভাবেই আমরা আশান্বিত হয়েছি, বিপুল সংখ্যক ছাত্রের প্রাণের বিনিময়ে ক্ষমতার চেয়ারে যে সরকার বসলো, তারা রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সীমাহীন দূর্ভোগ নিরসনে কালক্ষেপণ করবে না।
বিশ্ববিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার ৯ বছর অতিক্রান্ত হলেও এর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে কোনো অর্থই বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। পরপর ৭ বার ডিপিপি সংশোধন করে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বর্তমান সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতিকে বিবেচনায় রেখে সর্বশেষ ৫১৯ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার ডিপিপি উপস্থাপন করেছেন। যা পরিকল্পনা বিভাগে চলতি বছরের ৭মে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় আলোচিত হয়।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয় এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান প্রস্তাবিত ক্যাম্পাসটি সরেজমিনে গিয়ে দেখতে চান। সে অনুযায়ী চলতি বছরের ১৬ জুন তিনি শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রামকান্তপুর মৌজার বুড়ি পোতাজিয়ায় গিয়ে ক্যাম্পাসের স্থান পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে এক বক্তব্যে তিনি রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস নির্মাণে কারো দ্বিমত নেই বলে উল্লেখ করে বক্তব্য রাখেন ও তার ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। এরপর ফিরে গিয়ে এ সংক্রান্ত লিখিত প্রতিবেদন জমা দিলেন। ওই প্রতিবেদনে তিনি কী লিখলেন, আমরা তা জানি না। এরপর একাধিক একনেক সভা অনুষ্ঠিত হলেও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ এর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ প্রকল্পটি এজেন্ডাভুক্ত না হওয়া দুরভিসন্ধিমূলক কি-না তা নিয়ে আশঙ্কার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। কেন বা কী কারণে এমনটি হচ্ছে, তার কোনো ব্যাখ্যাও সরকার আমাদেরকে জানায়নি। এটি কেবল রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতি উপেক্ষা নয়, এটি বাংলাদেশের বিপ্লবী ছাত্রসমাজের স্বার্থের প্রতি অবজ্ঞা।
