অঙ্ক পরীক্ষায় দুইটা শূন্য পেয়েছে তিতলি। সেই থেকে তিতলির মন খারাপ। একা একটা ঘরে বসে আছে। অনেক চেষ্টা করেও কেউ ওর মন ভালো করতে পারেনি।
বাড়ির সবাই জরুরি সভায় বসেছে। তিতলির মন ভালো করতে কে কী
করবে সভায় আলোচনা হলো।
প্রথমে তিতলির ফুফু এলো ওর ঘরে। বলল, ‘তুমি তো সাজুগুজু করতে
পছন্দ করো, মাম্মা! অঙ্কে লাড্ডু
পেয়েছ, এটা খুব আনন্দের ব্যাপার।
চলো এই আনন্দে আমরা
সাজুগুজু করি।’
যেই বলা সেই কাজ। তিতলিকে ফুফু সাজিয়ে দিল। নিজেও সাজল। তবুও তিতলির মন ভালো হলো না।
তারপর এলো তিতলির দাদা। হাতে ফুলের তোড়া। বলল, ‘অঙ্কে লাড্ডু পাওয়া বিরাট গৌরবের বিষয়, দাদুভাই! তোমাকে উপহার দিতে দেখো তোমার পছন্দের কত্তো ফুল এনেছি।’
দাদা ফুলের তোড়াটা তিতলির হাতে দিল। তিতলি বুক ভরে ফুলের গন্ধ শুঁকে ফের মন খারাপ করে বসে রইল।
থালায় নানা পদের ক’টা লাড্ডু নিয়ে এবার তিতলির বাবা এলো। বলল, ‘আমার ছোট্ট মেয়েটা অঙ্কে লাড্ডু পেয়েছে। সেই খুশিতে লাড্ডু না খেলে চলে? এসো তোমাকে লাড্ডু খাইয়ে দিই, বেটা।’
তিতলি বাবার হাতের লাড্ডুগুলো দেখল, কিন্তু ছুঁয়েও দেখল না। লাড্ডুতেও তার মন ভালো হলো না।
গিটার বাজাতে বাজাতে তিতলির ভাই এসে দাঁড়াল। বয়সে বড় হলেও তিতলিকে সে তিতলিপা বলে ডাকে। প্রচুর ফান আছে এমন একটা গান শুনিয়ে বলল, ‘গানটা সুন্দর না, তিতলিপা! অঙ্কে লাড্ডু পাওয়া নিয়ে বানিয়েছি।’
পাশে বসে তিতলিকে অনেক গান শোনালো। উহু! তাতেও তিতলির মন ভালো হলো না।
তিতলির কাকা এসে বলল, ‘শোনো, আম্মা! তুমি যে অঙ্কে লাড্ডু দুটো পেয়েছ, সেগুলো আমাকে দেবে? কত্তদিন হয়ে গেল লাড্ডু খাই না।’
তিতলি থালা থেকে একটা লাড্ডু নিয়ে কাকাকে খাইয়ে দিল। মন দিয়ে কাকার সদানন্দ কথাও শুনল। তবু মন ভালো হলো না ওর।
দাদি এসে বলল, ‘আমার সোনাটা অঙ্কে লাড্ডু পেয়েছে। সেই খুশিতে অনেক বছর পর সোনাটার পছন্দের পোলাও-মাংস রান্না করেছি। চল সোনা, তোকে আজ নিজের হাতে খাইয়ে দেব আমি।’
নাহ্! তিতলি কোথাও যাবে না। কিচ্ছু খাবে না। অঙ্কে লাড্ডু পেয়েছে বলে ভারী মন খারাপ ওর।
ফের বাড়ির সবাই মিলে সভায় বসল। কিছুতেই তিতলির মন ভালো করা যাচ্ছে না! এখন কী হবে! এই নিয়ে অনেক আলোচনা হলো।
মা বলল, ‘তিতলির সবচেয়ে পছন্দের খাবার কেক। লাড্ডুর আদলে আমি একটা কেক বানিয়েছি। চলো সবাই মিলে কেকটা নিয়ে তিতলির কাছে যাই। কেক খেয়ে নিশ্চয় ওর মন ভালো হয়ে যাবে।’
যেই ভাবা সেই কাজ! কেক নিয়ে সবাই তিতলির ঘরে হাজির। তিতলির দুই পাশে দাঁড়ালো বাবা, দাদা, কাকা, ফুফু আর ভাই।
কেকটা তিতলির সামনে রেখে মা বলল, ‘আমাদের বংশে কেউ কোনো দিন অঙ্কে লাড্ডু পায়নি। তিতলি পেয়েছে। সেই খুশিতে তিতলির জন্য মা নিজের হাতে কেক বানিয়েছে।’
অমনি কেঁদে ফেলল তিতলি। কাঁদতে কাঁদতে বলল, ‘একবারই তো অঙ্কে শূন্য পেয়েছি! এরপর ভালো করে পড়ালেখা করব। তাহলে আর শূন্য পেতে হবে না।’
বাবা বলল, ‘এমা! কে বলেছে শূন্য পেয়েছ! তুমি পেয়েছ লাড্ডু! আমাদের বংশের প্রায় সবাই কখনো না কখনো অঙ্কে শূন্য পেয়েছে, তুমিই প্রথম, যে লাড্ডু পেল। তুমি তো আমাদের গর্ব গো, মা।’
এই বলে বাবা পকেট থেকে অঙ্ক খাতাটা বের করল। মেলে ধরল তিতলির সামনে। খাতার ওপর বড় করে দুইটা লাড্ডুর ছবি আঁকা। দেখে তিতলি ভাবে স্কুলের অঙ্ক মিস ভারি রসিক! শূন্যের
বদলে দুইটা রহস্যে ভরা লাড্ডু এঁকে দিয়েছে। লাড্ডুজোড়া দেখে তিতলি ফিক করে দিল হেসে।
