প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে ভোটারদের আস্থা, তাদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসা, সোশ্যাল মাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে অপতথ্য প্রচার বন্ধ করা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।’ গতকাল শনিবার সকালে খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচনী কার্যালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
সিইসি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দ্রুত অপতথ্য-মিস ইনফরমেশন, ডিস ইনফরমেশন, ম্যাল ইনফরমেশন ছড়িয়ে দেওয়া হয়, যা দ্রুত সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে হুবহু ভিডিও-ভয়েস তৈরি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি এখন অস্ত্রের চেয়ে ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। মডার্ন যুগে মডার্ন থ্রেট বহুবিধ ও নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে আমরা এগোচ্ছি। এ ধরনের অপপ্রচারের কারণে ইউরোপের একটি দেশে ভোট স্থগিত করারও ঘটনা ঘটেছে, যা নির্বাচন কমিশনকে ভাবাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে।’
প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, ‘সবার সহযোগিতায় আমরা জাতিকে একটি ভালো নির্বাচন উপহার দিতে চাই, এটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। বিদ্যমান আইন না বদলানো পর্যন্ত আগের নিয়মেই নির্বাচন হবে। আমরা রাতের বেলায় কিছু করতে চাই না, সবকিছু দিনের স্বচ্ছ আলোতে হবে। আমরা যদি মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করতে পারি। গণঅভ্যুত্থান করতে পারি তাহলে একটি স্বচ্ছ, গ্রহণযোগ্য ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারব না কেন? জীবন যদি ফজর থেকে মাগরিব হয়। তাহলে আমি আমার জীবনের আসর পর্যন্ত এসে গেছি। তাই এমন কিছু করতে চাই না, যা আমাকে কলঙ্কিত করবে। এটি শুধু আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়, এজন্য সবার সহযোগিতার প্রয়োজন।’
কবে নাগাদ নির্বাচন হবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলে আপনারা জানতে পারবেন কবে নির্বাচন হবে, তার আগে বলা সম্ভব নয়। এ ছাড়া যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষিত হবে, তখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নির্বাচন কমিশনের অধীনে আসবে। তিনি বলেন, নির্বাচন আয়োজনের জন্য আইনশৃঙ্খলা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিয়ে এ চ্যালেঞ্জ উতরাতে পারব বলে বিশ্বাস আছে। নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সারা দেশে সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলাজনিত হুমকিগুলো পর্যালোচনা করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির কোনো আশঙ্কা থাকলে তা মোকাবিলার প্রস্তুতি আমাদের থাকবে। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট ও তার ঠিক পরের সময়টিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল ছিল। কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি সে সময়ের তুলনায় অনেক ভালো। নির্বাচনের তারিখ আসতে আসতে পরিস্থিতি আরও ভালো হবে।
ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের কথা আমরা বলিনি, প্রধান উপদেষ্টা বিভিন্ন দপ্তরকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে বলেছেন। তারপরও এটি অসম্ভব নয়।’
এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কোনো দলীয় সরকারের অধীনে নেই, আমরা একটি ইন্টেরিম সরকারের অধীনে আছি, তাই আমাদের দলীয় কোনো চাপ নেই। একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন জাতিকে উপহার দেওয়ার জন্য আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচন কমিশন নিয়ে আসার সংস্কার প্রস্তাবগুলোর যেগুলো কমিশনের বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেটি কমিশন করছে।’ তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা ও সহযোগিতার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সাল কাদের, জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা বেনজির আহমেদ ফরাজীসহ নির্বাচন কমিশন-সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে নগরীর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে খুলনা বিভাগের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধান নির্বাচন কমিশনের মতবিনিময় করার কথা রয়েছে।
