শ্রীপুর

১০ দাবিতে শ্রমিকদের মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত অন্তত ৫০

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৫, ০৬:৩৩ পিএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে বকেয়া পরিশোধসহ ১০ দফা দাবিতে আরএকে সিরামিকস কারখানার শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে অন্তত ৫০ জন শ্রমিক আহত হয়েছেন বলে দাবি আন্দোলনকারীদের।

রবিবার (২৭ জুলাই) সকাল থেকেই শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর এলাকায় ঢাকা-ময়মসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামে শত শত শ্রমিক। এতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয়পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় এবং দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। অফিসমুখী মানুষ পড়েন চরম দুর্ভোগে।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, চুক্তি অনুযায়ী ইনক্রিমেন্ট ও অন্যান্য পাওনা সময়মতো পরিশোধ করছে না কারখানা কর্তৃপক্ষ। বারবার বলার পরও কোনো সমাধান না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে রাজপথে নামেন। তারা বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করলেও পুলিশ কারখানা কর্তৃপক্ষের পক্ষ নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘পুলিশ শুধু টিয়ারশেল ছোড়েই থেমে থাকেনি, আশপাশের গলিতে আশ্রয় নেওয়া শ্রমিকদেরও পিটিয়েছে। এতে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ৫০ জন আহত হন।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়ক অবরোধ করলে পুলিশ এসে তাদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু এতে উত্তেজনা আরও বাড়ে। একপর্যায়ে শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় পুলিশ টিয়ারশেল ছোড়ে ও লাঠিচার্জ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সংঘর্ষ ও টিয়ারশেলের কারণে আশপাশের এলাকা থমথমে হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আরএকে সিরামিকসের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছিল। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার আগেই শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করেন এবং মহাসড়কে অবস্থান নেন। পুলিশ এসে শ্রমিকদের বোঝানোর চেষ্টা করে।’

বিক্ষোভের ফলে সৃষ্ট বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। জরুরি পরিবহনসহ সব ধরনের যানবাহন আটকে পড়ে, যা জনসাধারণের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে দেয়।

সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখনো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, তবে শ্রমিকদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজমান।

শিল্প পুলিশের শ্রীপুর সাব জোনাল ওসি আবদুল লতিফ বলেন, মহাসড়কের যান চলাচল স্বাভাবিক করতে শ্রমিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা মারমুখী হলে তাদের সরাতে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করতে হয়েছে। তবে কোনো লাঠিচার্জ করা হয়নি। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে কারখানা এলাকায়।

মাওনা হাইওয়ে থানার ওসি আইয়ুব আলী জানান, দুই ঘণ্টার একটু বেশি মহাসড়ক বন্ধ ছিল। এখন স্বাভাবিক আছে যানবাহন চলাচল। সকালে কারখানা শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ের জন্য মহাসড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ থানা পুলিশ ও শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষুব্দ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত