বিল্ড অপারেট ট্রান্সফার (বিওটি) পদ্ধতিতে সর্বপ্রথম রেলওয়ের ভূমিতে প্রকল্প গ্রহণ করে কনকর্ড। ২০০৪ সালে চট্টগ্রামের ফয়’স লেক আধুনিকায়নে বিনিয়োগ করে কোম্পানিটি। ৫০ বছর মেয়াদে বরাদ্দ পাওয়া সংস্থাটি সম্পর্কে সরকারি ভূমিতে বিনিয়োগের নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের চিফ মার্কেটিং অফিসার অনুপ কুমার সরকার
দেশ রূপান্তর : সরকারি ভূমিতে প্রাইভেট কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু অনেক আগে বিনিয়োগ করেছেন, তাই আপনাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা বেশি। এর সুবিধা কী?
অনুপ কুমার সরকার : আমাদের সঙ্গে যখন রেলওয়ের চুক্তি হয়, তখন পিপিপি অথরিটি ছিল না। যদি পিপিপি অথরিটি থাকত, তাহলে হয়তো পিপিপি’র মাধ্যমেই বিনিয়োগ করতে হতো। আমরা বিওটি পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করলেও এর আদলে শর্ত ও লভ্যাংশ বণ্টনের পদ্ধতিগুলো পিপিপি’র মতোই। তবে এখন একটি অথরিটি থাকায় ও সরকারের পক্ষ থেকে প্রাইভেট বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করায় আইনগত এবং প্রাতিষ্ঠানিক দিক খুব মজবুত হবে। এই পদ্ধতির অন্যতম সুবিধা হলো প্রাইভেট বিনিয়োগকারীরা সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিনিয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। এতে তাদের বিনিয়োগের নিশ্চয়তা থাকছে। শুধু বিনিয়োগকারীর নিশ্চয়তা নয়, সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাও আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। সরকারও বিনিয়োগের ভ্যাট ট্যাক্স পাচ্ছে।
দেশ রূপান্তর : আপনারা ৫০ বছর মেয়াদে বিনিয়োগ করছেন। সময়টা বেশি হয়ে গেল না?
অনুপ কুমার সরকার : প্রাইভেট বিনিয়োগকারী এতগুলো টাকা বিনিয়োগ করবে, বিনিয়োগ করা টাকা উঠে আসার পাশাপাশি লাভের আশায়। আর লাভ তো কম সময়ে আসবে না। একটি জায়গায় পরিকল্পনা প্রণয়নের মাধ্যমে বিনিয়োগেই চলে যায় প্রায় ১০ বছরের বেশি সময়। তাই যত দীর্ঘ মেয়াদে প্রকল্প নেওয়া যায়, প্রকল্প থেকে রিটার্ন তত ভালো আসে। এতে বিনিয়োগকারীও নিশ্চিন্ত থাকতে পারে।
দেশ রূপান্তর : আপনারা কি রেলওয়ে বা সরকারি অন্যান্য জায়গায় আরও বিনিয়োগে আগ্রহী?
অনুপ কুমার সরকার : আমরা রেলওয়ের কাছে আরও কিছু জায়গা চেয়েছি বিনিয়োগের জন্য। এমন বিনিয়োগে প্রাইভেট কোম্পানিগুলো যেমন লাভবান হবে, তেমনি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে। আমি উদাহরণ দিয়ে বলতে চাই, ফয়’স লেকের ভেতরে আমরা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। কিন্তু এর বাইরে পুরো এলাকা ঘিরে কিন্তু একটা অর্থনৈতিক জোন গড়ে উঠেছে। এভাবে রেলওয়ে তথা সরকারের অব্যবহৃত জায়গায় প্রাইভেট বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের সুযোগ দিলে রেলওয়ে যেমন লাভবান হবে, তেমনি কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।
