নিজেকে একা দাবি করলেন তমা। বর্তমানে কাজ নিয়ে ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় আপাতত প্রেম, ভালোবাসা এমনকি বিয়ে বা ঘর-সংসারের কোনা পরিকল্পনা নেই তার। এখন অভিনয়ই তার প্রথম ও প্রধান ভাবনা। তমা মির্জা বলেন, ‘সংসার করতে হলে আগে মনস্থির করতে হয়। কাউকে বিয়ে করে সংসার করব- এমন মানুষ এখনো পাইনি।’
তমার ভাষ্য, ‘জীবনের পথে চলতে গিয়ে অনেকেই বন্ধু হয়ে আসে, কেউ থেকে যায়, আবার চলেও যায়। কিন্তু আমার জীবনে প্রেম একবারই এসেছিল, একজনকেই ভালোবেসেছি, আর কাউকে পারিনি- এটাও নিছক মিথ্যা হবে। প্রেম বারবার আসতে পারে। কেউ কেউ হয়তো ভালোবেসে সারা জীবন একজনের সঙ্গেই কাটিয়ে দেন।’
অভিনেত্রী আরও বলেন, ‘এই সময়ে এসে এমন কাউকে পাওয়া সত্যিই কঠিন। জীবনের যেসব সময়ে প্রেম-ভালোবাসা এসেছে, তখন হয়তো ভেবেছি, বিয়ে করে সংসার করব, নিজেকে স্থির রাখবো। কিন্তু এখন যেহেতু জীবনে এমন কেউ নেই, তাই তেমন কিছু ভাবছি না। তবে হঠাৎ বৃষ্টির মতো যদি কেউ আসে, যদি মনে হয় তার সঙ্গে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেওয়া সম্ভব, তখনই বিয়ে করব।’
তবে হঠাৎ করে তমা মির্জার এমন বক্তব্য শুনে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই চিত্রপরিচালক রায়হান রাফীর সঙ্গে তার প্রেমের খবর প্রকাশ পাচ্ছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে। তাদের বিয়ের খবরও চাউর হয়েছে বেশ কয়েকবার। পারিবারিক অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে ব্যক্তিজীবনেও নানা বিশেষ দিনে একে অপরের পাশে থাকতে দেখা যায় এই জুটিকে। ফলে খুব সহজেই ভক্তদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে তাদের প্রেমের গুঞ্জন।
রায়হান রাফীর ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ ওয়েব ফিল্মে প্রথমবার অভিনয় করেন তমা মির্জা। এরপর ‘৭ নম্বর ফ্লোর’-এ দেখা যায় অভিনেত্রীকে। সেখান থেকেই নাকি দুজনের প্রেমের শুরু। যদিও গত বছরের শেষের দিকে হঠাৎ করেই শোনা যায়, দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে রাফী ও তমার মাঝে। সে সময় এক সাক্ষাৎকারে রাফী বলেন, ‘তমা ও আমাকে জড়িয়ে যেসব খবর শোনা যায়, সেসব কেবলই গুঞ্জন ছিল। তবে আমাদের মধ্যে অনেক ভালো বন্ধুত্বের সম্পর্ক, যা আগেও ছিল এবং এখনো আছে। কিন্তু আমাদের নিয়ে মানুষ যেটা ভাবে, সেটি নেই।’
রাফীর এমন বক্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তমা জানান, সেই বন্ধুত্বও নাকি নেই! ‘ভালোবাসা সরে গেলে বন্ধুত্ব থাকে? নাকি নতুন করে বন্ধুত্ব হতে পারে? সত্যিই আমার জানা নেই। আগের কোনো বিষয় নিয়ে এখন কথা বলতে চাই না। কারণ, তা একান্তই ব্যক্তিগত। তবে এটা ঠিক, তারকাদের ব্যক্তিগত বিষয় গোপন থাকে না। তাই বলছি, আমাদের অফ স্ক্রিনে কিংবা অন স্ক্রিন একসঙ্গে দেখার সম্ভাবনা একেবারেই নেই।
তমা মনে করেন সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলায়। তার কথায়, `প্রেম, বন্ধুত্ব, বিয়ে- যেটাই বলা হোক বা না হোক, একসঙ্গে আড্ডা, দেখা বা কথাবার্তা- এসবকে আমি ছন্দপতন মনে করি না। আমি আমার মতো করে আছি, আমরা আমাদের মতো করে এগোচ্ছি- এটাই সবচেয়ে ভালো। একই জায়গায় কাজ করি বলে দেখা হতেই পারে, কথাও হতে পারে, আড্ডাও হতে পারে।'
