সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার স্কুলছাত্র সুমেল মিয়া হত্যা মামলায় ৮ আসামির মৃত্যুদণ্ড ও ৭ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া আরও ১৭ আসামিকে ২ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (৩০ জুলাই) সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দা আমিনা ফারহিন এই রায় প্রদান করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সাইফুল ইসলাম, নজমুল ইসলাম, সদরুল ইসলাম, সিরাজ আলম, জামাল আহমদ, শাহিন আহমদ, আবদুল জলিল ও আনোয়ার হোসেন। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ইলিয়াস হোসেন, আবদুন নূর, জয়নাল হোসেন, আশিক হোসেন, আছকির আলী, আকবর হোসেন ও ফরিদ আহমদ।
আদালতের পিপি কামাল হোসেন জানান, রায়ে ৭ জনের ফাঁসি, ৮ জনের যাবজ্জীবন ও ১৭ জনকে ২ বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে একজন পলাতক এবং বাকী সব আসামি রায় ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর আদালতের নির্দেশে তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। রায়ে বাদীপক্ষ সন্তুষ্ট বলেও জানান পিপি।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২১ সালের ১ মে বিশ্বনাথের চৈতননগর গ্রামের নজির উদ্দিনের জমি থেকে জোর করে রাস্তায় মাটি তুলতে চান যুক্তরাজ্য প্রবাসী সাইফুল আলম। এসময় তাকে বাধা দেন নজির উদ্দিন, তার চাচাতো ভাই মানিক মিয়া ও ভাতিজা স্কুলছাত্র সুমেল মিয়া। বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সাইফুল আলমের বন্দুকের গুলিতে সুমেল মিয়া নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন সুমেলের বাবা, চাচাসহ ৪ জন।
এ ঘটনায় সুমেলের চাচা ইব্রাহিম আলী বাদী হয়ে ২৭ জন আসামির নাম উল্লেখ করে বিশ্বনাথ থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। মামলায় মোট ২৭ জন স্বাক্ষী সাক্ষ্য প্রদান করেন।
