আন্দোলনে কলেজছাত্র হত্যা মামলা

ফেনীতে শেখ হাসিনা-নিজাম হাজারীসহ ২২১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৪:২৩ পিএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ফেনীর মহিপালে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম (২৫) হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। এতে পতিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ২২১ আসামিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ফেনী সদর আমলী আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দুপুর ১২টার দিকে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।

পুলিশ সুপার বলেন, এ মামলায় ১৫৬ জন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত ৬৫ জনসহ মোট ২২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ২২টি মামলা হয়েছে। তারমধ্যে ৭টি হত্যা ও ১৫টি হত্যাচেষ্টা মামলা।

এসব মামলায় ২ হাজার ১৯৯ জন এজাহারনামীয় ও আরও ৪ হাজার অজ্ঞাত আসামি রয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজারের বেশি আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গেল বছরের ৪ আগস্ট মহিপালে মাসুম হত্যাকাণ্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মূলত পুলিশের বিভিন্ন তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তারাই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এখানে কে কোন রাজনৈতিক দলের তা বিবেচনা করা হয়নি।

দীর্ঘ তদন্ত ও চুলচেড়া বিশ্লেষণ করে ২২১ জনের নামে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়। এজহারভুক্ত ১৬২ জনের মধ্যে ১৫৬ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। অতিরিক্ত তদন্তে যোগসাজশ পাওয়ায় আরও ৬২ জনকে চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

চার্জশিটে অভিযুক্তদের মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জাতীয় পার্টির প্রেসডিয়াম সদস্য লে. জে. (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী রয়েছেন।

এর আগে গেল বছরের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন কলেজ ছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম। 
পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন তিনি। নিহত মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির মৃত মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতক সম্পন্ন করেন।

এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বাদী হয়ে ১৬২ জনের নাম উল্লেখ এবং আরও ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান জানান, এ মামলায় ৫১ জন গ্রেপ্তার রয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জন ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। বেশ কিছু অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। নিরপরাধ ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় কাউকে অভিযুক্ত করা হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত