চট্টগ্রাম মহানগরীর ফুসফুসখ্যাত সিআরবিতে শুক্রবার (১ আগস্ট) সকালে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম করছিল কিছু বিদেশি নাগরিক। কাছে গিয়েই দেখা যায় দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা পাঁচ শিক্ষার্থীর নেতৃত্বে চট্টগ্রামে কর্মরত কোরিয়ান নাগরিক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন এই পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। তারা পুরো এলাকা থেকে ৮০ বস্তা প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছে।
সাধারণত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত কিংবা সেন্টমার্টিন দ্বীপে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ অভিযান চালিয়ে থাকে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কিংবা পরিবেশ কর্মীরা। কিন্তু নগরীর প্রাণকেন্দ্র সিআরবিতে এমন অভিযান সহসা চোখে পড়েনি। আবার তাও দেশি শিক্ষার্থী নয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে। আর এই কাজে সহযোগিতা করেছে চট্টগ্রামের পরিবেশ অধিদপ্তর।
কোরিয়া থেকে কারা এসেছে জানতে চাইলে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের সহকারী পরিচালক মুক্তাদির হাসান বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা এসব শিক্ষার্থী পরিচ্ছন্নতা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে এসেছে। তাদের সাথে আমাদের পরিবেশ অধিদপ্তরের টিমও রয়েছে। মূলত: পরিবেশ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে এবং যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলে যাতে পরিবেশ নষ্ট না করে তা নিয়ে সজাগ করতেই তাদের এই কর্মসূচী।’
তিনি আরো বলেন, কোরিয়ান এসব শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আগামী শুক্রবারে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমও পরিচালিত হবে।
জানা যায় কোরিয়া থেকে আসা এই পাঁচ নারী শিক্ষার্থী হলো জিনজু বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের হুন এ কিম, সিওলের বাইওহা ওমেন্স ইউনিভার্সিটির সফটওয়্যার ডিপার্টমেন্টের হুন সিওডু, ইনহা টেকনিক্যাল কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ওনন সোল চু, বুচিয়ন ইউনিভার্সিটির ব্যবসায় অনুষদের ই উন নুন এবং ম্যাংজি ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চে হি কিম। তাদের বাংলাদেশে আসার বিষয়টি সমন্বয় করেছেন বাংলাদেশে থাকা কোরিয়ান নাগরিক সোলেমান কিম।
তিনি বলেন, বিশ্বকে এ টু জেড পর্যন্ত পরিচ্ছন্ন রাখতে কোরিয়ান এই পাঁচ শিক্ষার্থী সম্পূর্ণ নিজের খরচে বাংলাদেশে এসেছে। এসব শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম মহানগরীর দুটো পয়েন্টে পরিচ্ছন্ন অভিযান চালানোর পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিবেশ সচেতনতামূলক সেমিনারে অংশ নেবে। আগামী ২০ আগস্ট তারা আবারো কোরিয়া চলে যাবে।
কোরিয়া থেকে আসা তাদের একজন হুন এ কিম বলেন, আমরা বাংলাদেশকে অনেক ভালোবাসি এবং বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদকে সম্মান করি। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে আমরা এদেশে এসেছি। জাতিসংঘের সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল পূর্ণ করার সুবিধার্থে এই সচেতনতা কার্যক্রম করা হচ্ছে।’
এদিকে পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমে তারা পতিত পলিথিন, চিপসের প্যাকেট, দর্শনার্থীদের ব্যবহৃত প্লাস্টিক পণ্য ও মোড়ক সংগ্রহ করে। এ সময় তাদের সাথে ৩৪ জন স্বেচ্ছাসেবক ও পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের ২০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। এই পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম সূচনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক সোনিয়া সুলতানা।
৩ আগস্টের ছাত্র সমাবেশে ছাত্রদলের ৬ নির্দেশনা
এলপিএল দিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেবে শ্রীলঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যুর সাফল্যে বাণিজ্য উপদেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা জ্বালানি উপদেষ্টার