ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ  করায় ইউএনওকে হুমকি

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৩৯ এএম

রাস্তায় টানানো ফেস্টুন অপসারণ করায় রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়সাল আহমেদের ওপর হম্বিতম্বি করেছেন এক বিএনপি নেতা। তিনি ইউএনওকে আগের স্থানেই ফেস্টুন লাগিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইউএনওকে ধমক দেওয়ার একটি অডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ওই নেতার নাম ইঞ্জিনিয়ার কে এম জুয়েল। তিনি রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক। গোদাগাড়ী উপজেলার রিশিকুলে তার বাড়ি। প্রবীণ রাজনীতিবিদরা তাকে চিনলেও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তার তেমন পরিচয় নেই। গতকাল শুক্রবার রাতে তার ও গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

এতে শোনা গেছে, কে এম জুয়েল বলছেন, আমি ইঞ্জিনিয়ার কে এম জুয়েল বলছি, সম্ভাব্য ক্যান্ডিডেট। আপনার গোদাগাড়ী থানার প্রোপারে যে পোস্টার সরিয়েছেন, এ বিষয়ে কিছুক্ষণ আগে আমাকে ইনফর্ম করা হয়েছে। সেখানে আমার পোস্টার ছিল। জামায়াত-বিএনপির পোস্টার ছিল। আপনি যে হটাইছেন, এর কারণ কি? কোনো পরিপত্র আছে? না ইচ্ছে করে?’

ইউএনও তখন বলেন, ‘জনগণ অভিযোগ দিয়েছে।’ জুয়েল বলেন, ‘জনগণ তো অনেক অভিযোগ দিয়েছে। সমগ্র গোদাগাড়ী থানাতে ভর্তি হয়ে আছে পোস্টার। তোলেন, সব তোলেন।’ এ সময় ইউএনও কিছু একটা বলতে চাইলে তাকে থামিয়ে দিয়ে জুয়েল বলেন, ‘শোনেন, আমি যেটা বলছি লিগ্যাল রাইট নিয়ে বলছি, সেটার সঠিক অ্যানসার করবেন। আপনি কেন ওই জায়গার পোস্টার তুলেছেন, আর অন্য জায়গার তুলছেন না কেন? আমি ঢাকাতে আছি, আমি আসতেছি।’

ইউএনও বলেন, ‘আচ্ছা ঠিক আছে।’ জুয়েল বলেন, ‘না, আপনি যেখান থেকে পোস্টার তুলেছেন, সেখানে আপনি সাবমিট করবেন পোস্টার।’ ইউএনও বলেন, ‘ঠিক আছে।’

এ সময় আরও ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপি নেতা জুয়েল বলেন, ‘কালকে যেন আমরা ওখানে দেখতে পাই, পোস্টার যেখানে ছিল। ঠিক আছে মানে কি? অবশ্যই করবেন। না হলে যেটা করা দরকার সেটাই করব। আপনার অ্যাগেইনেস্টে যে রকম স্টেপ নেওয়া দরকার, সেটাই আমি করব। বিশেষ করে আমরা করব। আমার নেতার ছবি তুলেছেন আপনি ওখান থেকে। জাস্ট রিমেম্বার ইট।’

জুয়েল বলতে থাকেন, ‘নরসিংদী বাড়ি দেখান আপনি, না? কোন দল থেকে আসছেন আপনি? কোন দল থেকে এসেছেন? কার এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন আপনি? কালকে পোস্টার ভদ্রলোকের মতো লাগাবেন। ফাইজলামি! এহ, বিশাল ব্যাপার। উনি ইউএনও হয়ে গোদাগাড়ীতে আসছেন!’

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে ইউএনও ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘ডাইংপাড়া মোড়ে ব্যানার ফেস্টুন এ রকম পর্যায়ে ছিল যে যান চলাচলে সমস্যা হচ্ছিল। পাশাপাশি পৌরসভার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল বলে অভিযোগ ছিল। আবার নিরাপত্তার জন্য বেশ কিছু সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে, সেগুলো এই ফেস্টুনের কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। স্থানীয় জনগণ এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছে। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাতেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ব্যানার-ফেস্টুন সরিয়ে পৌরসভায় রাখা হয়েছে। বিএনপি নেতা কে এম জুয়েলের ফোনে শাসানোর বিষয়ে তার মন্তব্য জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, আমি তাকে চিনি না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ জানেন। ফেস্টুন সরানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন কি না, এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, আমাদের সিদ্ধান্ত যেটা আছে সেটাই কার্যকর থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত