গাঁজা-ইয়াবায় সয়লাব প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল, হুমকিতে তরুণ-যুবকরা

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ১০:৫৬ এএম

পটুয়াখালীর দুমকিতে ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে গাঁজা ও ইয়াবা। শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম সবখানেই মিলছে এসব মাদক। উঠতি বয়সী তরুণরা সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে পড়ছে এ আসক্তিতে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলা শহরের হলপট্টি, পবিপ্রবি গেট, খামারবাড়ি, নতুন বাজার, হাসপাতাল সড়ক, মাদরাসা ব্রিজ, পাতাবুনিয়া, লেবুখালী ফেরিঘাট, হাজিরহাট, ধোপারহাট, বোর্ড অফিস বাজারসহ বহু এলাকাই এখন ‘মাদকের আখড়া’। রাজাখালী বাজার, কদমতলা, চরগরবদি, কলবাড়ি ও তালুকদার বাজারেও চলছে প্রকাশ্যে কেনাবেচা।

স্থানীয়রা বলছেন, প্রতিবাদ করলে উল্টো মাদককারবারিদের রোষানলে পড়তে হয়। তরুণরা শুধু সেবনেই নয়, জড়াচ্ছে বিক্রিতেও। এতে কিশোর অপরাধ বাড়ছে। মাদক ঘিরে গড়ে উঠেছে কিশোর গ্যাং। আধিপত্য নিয়ে ঘটছে সংঘর্ষ। চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সশস্ত্র মহড়াও চলেছে নিয়মিত। বোর্ড অফিস, তালতলি ও স্কুলপট্টিতে সংঘর্ঘের ঘটনা ঘটেছে কয়েকবার।

সড়ক ও নৌপথে গড়ে উঠেছে মাদক পাচারের নিরাপদ রুট। বরিশাল ও ঢাকা-চরগরবদি নৌপথে আসে চালান। ভোররাতে চরগরবদি লঞ্চঘাটে পৌঁছেই তা চলে যায় ডিলারদের হাতে। পরে পাইকারি ও খুচরা বিক্রির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্রি হয় হোম ডেলিভারি, মোবাইল ও হাতে হাতে। ২৫ গ্রাম গাঁজা ১ হাজার টাকায়, একটি ইয়াবা বিক্রি হয় ৩০০-৩৫০ টাকায়।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের অভিযান শুরুর আগেই খবর পৌঁছে যায় কারবারিদের কাছে। মূল হোতারা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।

সচেতনদের মতে, প্রশাসনের দুর্বলতা ও রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া ছাড়া এ চেইন চলা সম্ভব নয়। আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বারবার মাদকের বিষয়টি উঠলেও তেমন অগ্রগতি নেই।

দুমকি থানার ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, তথ্য পেলেই আমরা ব্যবস্থা নিই। নিয়মিত অভিযান চলছে। তবে স্থানীয়দের সাহস করে তথ্য দিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত