রুশ আইনপ্রণেতার দাবি

ট্রাম্পের পাঠানো সাবমেরিন অনেক দিন ধরেই রাশিয়ার নজরদারিতে

আপডেট : ০২ আগস্ট ২০২৫, ০২:৩৩ পিএম

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ স্নায়ু যুদ্ধকালীন ‘ডেড হ্যান্ড’ পারমাণবিক কৌশলের উল্লেখ করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দেন।

ডেড হ্যান্ড হলো স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী একধরনের স্বয়ংক্রিয় বা আধা স্বয়ংক্রিয় পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি, যা দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেলেও পাল্টা পারমাণবিক হামলা চালাতে সক্ষম। এ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো শত্রুপক্ষকে নিশ্চিত ধ্বংসের বার্তা দেওয়া।

এর জবাবে রাশিয়ার কাছাকাছি ‘উপযুক্ত এলাকায়’ দুইটি পারমাণবিক সাবমেরিন মোতায়েনে ট্রাম্পের নির্দেশের পর নতুন করে স্নায়ুযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেন, ‘রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের উপ-চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভের অত্যন্ত উসকানিমূলক বক্তব্যের পর আমি দুইটি পারমাণবিক সাবমেরিনকে উপযুক্ত এলাকায় মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছি।’

ট্রাম্প বলেন, ‘এই বোকা ও উসকানিমূলক বক্তব্য কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে কিছু বলা যায় না। শব্দের গুরুত্ব অনেক— কখনো কখনো তা অনিচ্ছাকৃত বিপর্যয়ের কারণ হয়। আমি আশা করি, এবারের ঘটনা এমন কিছু হবে না।’

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন হুমকির জবাবে এখনো ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে কিছু বলা হয়নি।

তবে রুশ আইনসভার এক শীর্ষ সদস্য ভিক্টর ভোডোলাতস্কি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘বিশ্বের মহাসাগরগুলোতে রাশিয়ার পারমাণবিক সাবমেরিনের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে অনেক বেশি। যেসব অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সাবমেরিন পাঠিয়েছে, সেগুলো বহুদিন ধরেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে।’

ভোডোলাতস্কি আরও বলেন, এই বিষয়ে রুশ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়ার প্রয়োজন নেই।

তিনি সতর্ক করে জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওই দুই সাবমেরিন অনেক দিন ধরেই রাশিয়ার নজরদারিতে রয়েছে। এখন সময় এসেছে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে একটি মৌলিক চুক্তি করার, যেন বিশ্বে শান্তি ফিরে আসে এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে আর আতঙ্ক না থাকে।’

এদিকে ট্রাম্পের এমন মন্তব্যের পর সাবেক রুশ প্রেসিডেন্ট মেদভেদেভ তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে একটি বার্তায় বলেন, ‘যদি একজন সাবেক রুশ প্রেসিডেন্টের মন্তব্য বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর দেশের প্রেসিডেন্টের মধ্যে এমন প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে, তাহলে এটি প্রমাণ করে যে আমরা সঠিক পথেই আছি এবং এই পথেই আমরা চলতে থাকব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত