চট্টগ্রাম আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র

আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২৫, ০৭:৪২ এএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের বহদ্দারহাটে শহীদুল ইসলাম নামে এক দোকান কর্মচারী হত্যা মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। অভিযোগপত্রে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের ছোড়া শটগান ও বন্দুকের ১০টি গুলি লেগেছে শহীদুলের শরীরে। তবে কার কার ছোড়া গুলিতে শহীদুলের মৃত্যু, সে বিষয়টি অভিযোগপত্রে স্পষ্ট করেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযোগপত্রে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে। সাক্ষী করা হয়েছে ১২৮ জনকে।

জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই অভিযোগপত্রটি আদালতের প্রসিকিউশন শাখায় জমা দেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চান্দগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. ফয়সাল। তবে বিষয়টি জানাজানি হয়েছে গত শুক্রবার রাতে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে হতাহতের ঘটনায় চট্টগ্রামে হওয়া ১৫১টি মামলার মধ্যে এক দোকান কর্মচারী হত্যা মামলায় আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র দিল পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল শনিবার মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন জানান, অভিযোগপত্রটি গত বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দাখিল করা হয়। আদালত ২৫ আগস্ট অভিযোগপত্রের ওপর শুনানির সময় নির্ধারণ করেছে। আসামিদের মধ্যে আরও আছেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী ও আ জ ম নাছির উদ্দীন, সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, এম এ লতিফ, আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী, মহিউদ্দিন বাচ্চু, আবদুচ ছালাম, দিদারুল আলম দিদার, এস এম আল মামুন ও নোমান আল মাহমুদ, চসিকের সাবেক কাউন্সিলর জহরলাল হাজারী, এসরারুল হক, নুর মোস্তফা টিনু, পুলক খাস্তগীর, সলিমুল্লাহ বাচ্চু, জিয়াউল হক সুমন এবং নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট নগরের জুবিলি রোড এলাকায় জুতার দোকানের কাজ শেষে বাজার-সদাই নিয়ে চান্দগাঁওয়ের বাসায় ফিরছিলেন শহীদুল ইসলাম। বাসার পাশে বহদ্দারবাড়ি এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা আন্দোলনকারীদের ওপর লাঠিসোঁটা, হকিস্টিক ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা হয়। সেদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে আন্দোলনকারীদের ওপর ছোড়া ১০টি গুলি লাগে শহীদুল ইসলামের বুক, পেট ও পিঠে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে পরদিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহত শহীদুলের ভাই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে গত বছরের ১৯ আগস্ট চান্দগাঁও থানায় মামলা করেন। এতে আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় ৩০০ থেকে ৪০০ জনকে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার দিন পিস্তল হাতে ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সাবেক উপ-অর্থ সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী। তিনি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। কাটা বন্দুক হাতে ছিলেন যুবলীগের নেতা পরিচয় দেওয়া তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. ফিরোজ। তিনি নিজেকে আ জ ম নাছিরের অনুসারী পরিচয় দেন। তবে তিনি কোনো পদে নেই। শটগান হাতে ছিলেন নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সংগঠক মো. দেলোয়ার। তিনি হেলাল আকবরের অনুসারী। পিস্তল হাতে ছিলেন যুবলীগের কর্মী এন এইচ মিঠু ও ঋভু মজুমদার। তারা দুজন নগর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিমের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। নুরুল আজিম শিক্ষামন্ত্রীর অনুসারী।

পিস্তল হাতে চান্দগাঁও থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি মহিউদ্দিন ফরহাদ, যুবলীগের কর্মী মো. জালাল ওরফে ড্রিল জালাল ও মো. মিজানকেও দেখা গেছে। শটগান হাতে ছিলেন যুবলীগের কর্মী মো. তৌহিদ। তারা সবাই আওয়ামী লীগের সাবেক কাউন্সিলর মো. এসরালের অনুসারী। এসরাল আ জ ম নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অস্ত্র হাতে থাকা ফিরোজ, জালাল, তৌহিদ ও ঋভু মজুমদার এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার দিন শটগান থেকে গুলি করা যুবলীগ কর্মী তৌহিদুল ইসলামকে গত বছরের ২২ নভেম্বর গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আরেক অস্ত্রধারী মো. ফিরোজকে গ্রেপ্তার করা হয়। তৌহিদ আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে খুনের ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের ১৪২ জনের নাম বলেন। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া ১৫টি ভিডিও ও ৪১টি স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত আসামিদের শনাক্ত করে পুলিশ। এসব ভিডিও ও ছবি যে সম্পাদিত নয়, তা ঢাকায় সিআইডির ল্যাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হয় পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত