ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ দুই বছর পেরিয়ে গেলেও শান্তির কোনো আভাস নেই। বরং রাশিয়ার হামলার তীব্রতা ও কৌশল নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি জুলাই মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে রেকর্ড সংখ্যক ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসে সর্বোচ্চ। এসব হামলায় বহু বেসামরিক নাগরিক নিহত ও আহত হয়েছে, ধ্বংস হয়েছে ঘরবাড়ি, স্কুল ও হাসপাতাল।
জুলাই মাসে রাশিয়া ইউক্রেনে ৬ হাজারেরও বেশি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী ও পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, এ হামলাগুলো ছিল সুপরিকল্পিত ও ব্যাপক ধ্বংসাত্মক। জুনের তুলনায় জুলাইয়ে ড্রোন হামলা ১৬ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা দুর্বল করতেই রাশিয়া এ কৌশল নিয়েছে।
ফরাসি সংবাদসংস্থা এএফপি ও ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম কিয়েভ ইন্ডিপেন্ডেন্টের তথ্যানুযায়ী, জুলাইয়ে রাশিয়া ইউক্রেনে ৬ হাজার ২৯৭টি দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালায়। এর মধ্যে ৬ হাজার ১২৯টি ছিল শাহেদ-টাইপ ড্রোন, যা গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর মুখপাত্র ইউরি ইহনাতের মতে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
৯ জুলাই রাতে একাই রাশিয়া ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলে ৭৪১টি ড্রোন ও ডিকয় নিক্ষেপ করে, যা গত বছরের পুরো জুলাই মাসের হামলার চেয়েও বেশি। ওই রাতের হামলায় সুমি, দোনেৎস্ক ও খেরসনে অন্তত ৮ জন নিহত হয়। ইউক্রেনীয় বাহিনী ১০টি ড্রোন ছাড়া বাকিগুলো ভূপাতিত করলেও ক্ষয়ক্ষতি রোধ করা যায়নি।
ড্রোন হামলার পাশাপাশি জুলাইয়ে রাশিয়া ইউক্রেনে ১৯৮টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে, যা ২০২৪ সালের জুন ছাড়া বছরের সর্বোচ্চ। জুনেও ড্রোন হামলা ছিল ৫ হাজার ৩৩৭টি। এসব হামলায় ইউক্রেনের সামরিক স্থাপনা ও বেসামরিক জনগণের ওপর চাপ বাড়ছে, যা মানবিক সংকটকে গভরীর করছে।
এসব হামলার পর ১০ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনকে আরও ‘প্রতিরক্ষামূলক অস্ত্র’ দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে পেন্টাগন পরে জানায়, অস্ত্রের মজুদ কমে যাওয়ায় ইউক্রেনে সরবরাহ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে। এতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও দুর্বল হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও স্থল আক্রমণের উপর নির্ভর করলেও এখন ড্রোন তাদের প্রধান অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। এতে যুদ্ধের গতিপথ বদলেছে, বাড়ছে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা। ইউক্রেনের জন্য ড্রোন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
