কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আলাউদ্দিন (৫৫) নামের সাবেক এক ইউপি সদস্যকে অপহরণের পর কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেছে মুখোশধারী দুবৃত্তরা। রবিবার (৩ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে থেকে তাকে অপহরণ করা হয়।
সে উপজেলা বক্সগঞ্জ ইউপির সাবেক সদস্য ও আলীরা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার সারে ১২টার দিকে আলাউদ্দিন মেম্বার তার চাচাতো ভাই আবুল বাশারের জানাজার নামাজ শেষে আলিয়ারা গ্রামের নিজ বাড়ির সামনে এলে একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে আলাউদ্দিনকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
অপহরণের খবর পেয়ে আলাউদ্দিন মেম্বারের ভাগিনা তারেক ও ডা. আনোয়ার সন্ত্রাসীদের পিছু ধাওয়া করে উপজেলার চাঁন্দাইশ গ্রামের আবুল খায়ের মাস্টারের বাড়ির সামনে এসে হাত-পা বাঁধা ও গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। পরে আলাউদ্দিন মেম্বারকে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর একটি গরু আবুল খায়ের গোষ্ঠীর জমির ঘাস খেয়ে ফেলে। এ নিয়ে উভয় গোষ্ঠীর মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে হাতাহাতি হয়। এরপর ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর লোকজন আবুল খায়ের গোষ্ঠীর বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও লুটপাট চালায়। এ ঘটনায় দুই পক্ষ থানায় চারটি এবং আদালতে একটি, মোট পাঁচটি মামলা করে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) রাতে পুলিশ শেখ ফরিদ নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ছালেহ আহম্মদ গোষ্ঠীর লোক বলে জানা গেছে। এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা চরমে ওঠে।
শেখ ফরিদের গ্রেপ্তারের পর দিন শুক্রবার (২৫ জুলাই) সকালে উত্তর পাড়ায় জাফর আহম্মদের দোকানের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম ধাপে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হন। আহত হন আরও ১০ জন।
এ বিষয়ে ডা. আনোয়ার ও ভাগিনা তারেক জানান, আলাউদ্দিন মেম্বারের সঙ্গে পূর্ব শত্রুতা থাকায় ছালেহ আহমদ মেম্বার, শেখ ফরিদ, শহীদসহ মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে সড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়। আমরা হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।
এদিকে পালাতক থাকায় অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ঘটনায় সেনাবাহিনীর একটি টহল দল ২ জনকে আটক করে। মেম্বারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আলা উদ্দিন মেম্বার গোষ্ঠীর লোকজন প্রতিপক্ষের বাড়ি ঘরে আগুন দেয়।
উল্লেখ্য পূর্ব শত্রতার জের ধরে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কয়েক বার হামলা পাল্টা হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এসকল ঘটনায় উভয়পক্ষে থানায় ৬টি, আদালতে ৪টিসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে।
এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী জনি বলেন, আমরা চাচা ভাতিজা আমার চাচা আবুল বাশারের জানাজার নামাজ শেষ বাড়ির কাছে আসতে সালেহ আহাম্মদ, রিয়াদ, শেখ ফরিদ, রিংকুর নেতৃত্বে আমার চাচা আলা উদ্দিনকে তুলে নিয়ে খুন করে আমি এর বিচার চাই।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট-চৌদ্দগ্রাম সার্কেল এএসপি নিশাত তাবাসসুম বলেন, খবর পেয়ে আমি ওসিকে নিয়ে ঘটনাস্থলে আসি। পুলিশের একটি দলকে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করার জন্য হাসপাতালে রয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে ফজলুল হক বলেন, এক জনকে হত্যার খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছি। এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।
ঘটনায় আলাউদ্দিন মেম্বার হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
