ইরান-পাকিস্তান-তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান ত্রিপক্ষীয় চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. মাসউদ পেজেশকিয়ান। রবিবার (৩ আগস্ট) পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারের সঙ্গে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১২ দিনের যুদ্ধকালীন সময়ে পাকিস্তানের নেতৃত্ব ও জনগণের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ওই যুদ্ধে অন্তত ১ হাজার ৬৪ জন নিহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে ছিলেন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা। তিনি পাকিস্তানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন—বিশেষত উত্তেজনা হ্রাস, সংলাপ এবং কূটনৈতিক উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে।
বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান-পাকিস্তান-তুরস্কের মধ্যে বিদ্যমান ত্রিপক্ষীয় চুক্তিগুলো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা আজও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি এসব চুক্তি পুনরুজ্জীবনের জন্য একটি নতুন কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির প্রস্তাব দেন এবং ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা আরও গভীর করার আহ্বান জানান।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘ইসলামী ঐক্যই ইসরায়েলি আগ্রাসন রুখে দিতে পারে এবং আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিরোধের একটি উদাহরণ হতে পারে।’
বৈঠকে ইসহাক দার ইরানি প্রেসিডেন্টেকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পাকিস্তান ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি জানান, একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত রয়েছে, যা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের প্রস্তাব অনুযায়ী ইরান-তুরস্ক-পাকিস্তানের ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করাও পাকিস্তানের অগ্রাধিকার বলে জানান ইসহাক দার।
এদিন পেজেকশিয়ান পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির সঙ্গেও ইসলামাবাদে এক বৈঠকে মিলিত হন। উভয় নেতা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং সংঘাত এড়াতে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষার উপরও গুরুত্ব দেন।
ইরানের প্রেসিডেন্টের এ সফর সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশা জাগিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
