নেত্রকোনায় পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত সীমান্তবর্তী ৫ গ্রাম 

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৫, ০৯:০৬ পিএম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর ভারী বর্ষণে নেত্রকোনার দুর্গাপুরের কুল্লাগাড়া ইউনিয়নের পাহাড়ি সীমান্তবর্তী পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঢলের পানিতে ডুবে গেছে কৃষকের আগাম রোপা আমনের বীজতলা।
 

কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ আর ভারতের মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঝর্না ছড়ার পানিতে সোমবার দুপুর থেকে দুর্গাপুর উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের আড়াপাড়া, ছনগড়া, খুজিউড়াসহ পাঁচটি গ্রামে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে এখনো স্থানীয়দের বাসাবাড়িতে পানি না উঠলেও চলাচলে দুর্ভোগে সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন কয়েক দিনের বৃষ্টিতে আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে নতুন করে বৃষ্টি না হলে পানি কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা। 

তবে ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সদ্য রোপন করা আগাম রোপা আমনের বীজতলা। পাহাড়ে এই সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে অন্তত কয়েক শতাধিক হেক্টর জমির বীজতলা এখন পানির নিচে। স্থানীয়রা বলছেন পানি দু'একদিনের বেশি স্থায়ী না হলে ক্ষতির তেমন কোনো শঙ্কা নেই। তবে নতুন করে পানি আসলে নষ্ট হয়ে যেতে পারে পুরো বীজতলা। 

আড়াপাড়া গ্রামের কৃষক সতীশ সাংমা জানান, আমাদের আশপাশের আড়াপাড়া, ছনগড়া, খুজিউড়া আশপাশের গ্রামগুলোতে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। এই পানিগুলো আসছে পাহাড় থেকে। ভারতের মেঘালয় বৃষ্টি হলেই পাহাড়ি ছড়াগুলো দিয়েছে আমাদের গ্রামের পানির প্রবেশ করে। এই পানিতেই গ্রামের নিচে এলাকা গুলো ভেসে যায়। এতে করে আমাদের চলাচলে অনেক কষ্ট হচ্ছে। শিশুরা স্কুলে যেতে পারছে না। 

বিপিনগঞ্জ গ্রামের কৃষক আব্দুল হান্নান তালুকদার জানান, এ বছর মাত্র চার কাঠা জমিতে আমনের চাষ করেছিলাম। ইতিমধ্যে জমিতে চারা রোপণ করেছি। কিন্তু পাহাড়ি ঢলের পানিতে পুরো জমি ডুবে গেছে। জমিতে এখন কয়েক হাত পানি। এই ফসলই আমার একমাত্র আয়ের উৎস। পানিতে যদি ফসল নষ্ট হয়ে যায় তাহলে আর এ বছর ধান চাষ করা যাবে না। পুরো জমি এমনি এমনেই পড়ে থাকবে। এখন আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি। পানি যদি দু-একদিনে বসে থাকে তাহলেই সবগুলো চারা পচে নষ্ট হয়ে যাবে। 

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ রায়হানুল হক জানান, এ বছর দুর্গাপুর উপজেলায় ১৬ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষকরা জমিগুলোতে ও চাষাবাদ শুরু করেছে। তবে আবহাওয়া জনিত কারণে ও উজানের ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে নদী ও নদী তীরবর্তী এলাকায় কিছুটা পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে পাহাড়ি সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে পাহাড়ি ছড়ার পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। যে সব এলাকায় চাষের জমি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে আমরা কৃষকদের দিকনির্দেশনা পাশাপাশি খোঁজখবর রাখছি। 

জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, এখনো জেলার সোমেশ্বরী, কংশসহ নদনদীর পানি বিপদসীমার নিচে রয়েছে। নতুন করে বৃষ্টি না হলে পানি আরও কমে আসবে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত