ইসরায়েলি মিডিয়ার প্রতিবেদন

গাজা পুরোপুরি দখলের সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৪৭ এএম

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা পুরোপুরি দখলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একাধিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো।

সোমবার আই২৪নিউজ, জেরুজালেম পোস্ট, চ্যানেল ১২ এবং ওআইনেট জানায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী গাজার পুরো এলাকাজুড়ে, এমনকি যেসব স্থানে হামাসের হাতে বন্দিরা আটকে আছে— সেসব এলাকাতেও অভিযান চালাবে।

চ্যানেল ১২-এর প্রধান রাজনৈতিক বিশ্লেষক আমিত সেগা এক সিনিয়র সরকারি কর্মকর্তার বরাতে বলেন, ‘সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে গেছে। হামাস সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত আর বন্দি মুক্তি দেবে না, আর আমরা আত্মসমর্পণ করব না। এখনই পদক্ষেপ না নিলে, বন্দিরা অনাহারে মারা যাবে এবং গাজা হামাসের দখলেই থেকে যাবে।’

ফিলিস্তিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে। এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় বলছে, ‘এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রতিরোধে জরুরি হস্তক্ষেপ করুন, এটি হোক রাজনৈতিক চাপ তৈরির চেষ্টা, আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে চালানো পরীক্ষা, কিংবা প্রকৃতপক্ষে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা।’

তবে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলেও নেতানিয়াহুর দপ্তর তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

এমন একটি সময়ে এই খবর সামনে এলো, যখন গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের দুই বছর পূর্ণ হতে চলেছে এবং নেতানিয়াহু মঙ্গলবার তার যুদ্ধ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সামনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছেন।

একই সঙ্গে নেতানিয়াহু আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছেন—বিশেষত গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা, অপুষ্টিজনিত মৃত্যু এবং হামলায় অসংখ্য সাধারণ মানুষের প্রাণহানি নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

সর্বশেষ সোমবার গাজায় ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৭৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৩৬ জন খাদ্যের সন্ধানে থাকা মানুষ বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্যসূত্র।

এছাড়া গাজায় এখনো হামাসের হাতে থাকা ৪৯ জন বন্দির মধ্যে ২৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দুই বন্দি—রোম ব্রাসলাভস্কি ও এবিয়াতার ডেভিডকে—অত্যন্ত দুর্বল ও কঙ্কালসার অবস্থায় দেখা যায়, যা ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমাদের অবশ্যই একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থেকে যুদ্ধের লক্ষ্য পূরণে এগোতে হবে—শত্রুর পরাজয়, বন্দিদের মুক্তি, এবং নিশ্চিত করা যে গাজা আর কখনোই ইসরায়েলের জন্য হুমকি হয়ে উঠবে না।’

এদিকে সোমবার হামাসের সিনিয়র নেতা ওসামা হামদান যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ‘অপরাধের প্রতি চোখ বন্ধ রাখা’র অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলের জেদ, অহংকার এবং যুদ্ধবিরতির চুক্তি থেকে পিছু হটা—এসবই বন্দিদের জীবনের জন্য চরম হুমকি। গণহত্যা ও দুর্ভিক্ষের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণকে নিশ্চিহ্ন করার দায় নেতানিয়াহুর সরকারেরই।’

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ৯৩০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে, যার মধ্যে কমপক্ষে ১৮ হাজার ৪৩০ জন শিশু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত