ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হয়তো দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না বলে মনে করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
তিনি বলেছেন, ‘তার (শেখ হাসিনা) শেষ দিন বোধহয় ভারতেই কাটবে। তাকে হয়ত আমরা কখনো পাব না।’
মঙ্গলবার অনুসন্ধানী প্রামাণ্যচিত্র ‘রক্তাক্ত মহাসড়ক যাত্রাবাড়ি হত্যাকাণ্ড’ শীর্ষক উদ্বোধনী প্রদর্শনীর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আইন ও বিচার উপদেষ্টা। রাজধানীর কাওরানবাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
শেখ হাসিনার বিষয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনের সবচে বড় শান্তির দিন থাকবে বিচারটা (মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার) যখন শেষ করতে দেখবো। তবে, শেষ হওয়ার পরও শেষ হবে না। আমরা জানি প্রধান যে আসামি (শেখ হাসিনা) আছে, প্রধান যে অপরাধী আছে আমরা ধারণা, আমি জানিনা এভাবে বলা হয়তো ঠিক হচ্ছে না, তার (শেখ হাসিনা) শেষদিন ভারতেই কাটবে। তাকে বোধহয় আমরা আর কখনো পাবনা। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মনে যে ঘৃণা নিয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন, সেটাও যদি আমাদের অর্জন হয়, সেটাও কম নয়। এত ঘৃণা মানুষের, এত কষ্ট, এত ক্ষোভ। এই ঘৃণা থেকে, ক্ষোভ থেকে, ক্রোধ থেকে আশা আছে, সংস্কারের মাধ্যমে এ রকম শাসক যেন এ দেশে আর তৈরি না হয়। আমরা চেষ্টা করছি, আমাদের চেষ্টার ত্রুটি নেই।’
শেখ হাসিনা ও জুলাই অভ্যূত্থানের সময় পুলিশের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে আইন ও বিচার উপদেষ্টা বলেন, ‘পুলিশকে যে এ রকম একটা অমানুষ, বেপরোয়া, ভয়াবহ বাহিনীতে রূপান্তর করেছে, সে কত বড় অমানুষ। কত বড় অমানুষ হতে পারে সে। ইসরায়েলিরা প্যালেস্টাইনের মানুষকে বোধহয় এভাবে মারে। একটা দেশের সুশৃঙ্খল বাহিনী, আমার ট্যাক্সের টাকায় চলা, তাকে (পুলিশ বাহিনী) ইসরাইলি বাহিনীর মতো করে বাহিনী বানিয়েছে, যেন এভাবে খুন করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি শেখ হাসিনার স্ট্যান্ডার্ডের বিচার করতাম তাহলে এই বিচার কিন্তু চার পাঁচ মাসে হয়ে যেত। কিন্তু আমরা সেটা করতে চাই না। আমরা সম্পুর্ণভাবে, আন্তর্জাতিক জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য বিচার করতে চাই। ২০/৩০ বছর পরেও যেন এ বিচার নিয়ে প্রশ্ন না ওঠে।’
