যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে বেরিয়ে গেল রাশিয়া

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৭:১৬ এএম

মস্কো ও ওয়াশিংটনের চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রাশিয়া জানাল, তারা আর নিজেদেরকে ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত ইন্টারমিডিয়েট-রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস (আইএনএফ) চুক্তি মানতে বাধ্য বলে মনে করছে না। স্বল্প ও মধ্যম পাল্লার পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনে বিরত থাকার শর্তে দুই দেশ এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে তারা স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, যেহেতু পরিস্থিতি ইউরোপ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-নির্মিত ল্যান্ড-বেজড মাঝারি ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রকৃত মোতায়েনের দিকে এগোচ্ছে, তাই রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মনে করছে অনুরূপ অস্ত্রের ওপর একতরফা নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার শর্ত আর থাকছে না।

এই সিদ্ধান্তের জন্য সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ ন্যাটোর রাশিয়াবিরোধী নীতিকে দায়ী করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মস্কো এ নীতির জবাবে আরও পদক্ষেপ নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাগযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া মেদভেদেভ গত সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর এই সর্বশেষ আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ দেওয়া পোস্টে মেদভেদেভ বলেন : রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাঝারি ও স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণাটি ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর রাশিয়াবিরোধী নীতিরই ফল। এটি একটি নতুন বাস্তবতা, যা আমাদের সব প্রতিপক্ষকে মাথায় রাখতে হবে। অপেক্ষা করুন, আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে। রাশিয়ার ক্ষমতাধর নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মেদভেদেভ গত কয়েক বছরে দেশটির পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে বেশ কয়েকবার কট্টরপন্থি মন্তব্য করেছেন। তবে ‘আরও পদক্ষেপ’ বলতে কী বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। গত সপ্তাহে ট্রাম্প বলেছিলেন, ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যে যুদ্ধের ঝুঁকি নিয়ে মেদভেদেভের মন্তব্যের জবাবে তিনি দুটি মার্কিন পারমাণবিক সাবমেরিনকে ‘উপযুক্ত অঞ্চলে’ মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছেন।

রাশিয়া শর্ত মেনে চলছে না এই অজুহাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ সালেই এই আইএনএফ চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। তখন মস্কো বলেছিল, তারা চুক্তির প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে এবং ওয়াশিংটন পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন না করলে তারাও এমন কিছু করবে না। গত বছরের ডিসেম্বরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছিলেন, কৌশলগত বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী কর্মকাণ্ডের পাল্টায় মস্কোও প্রতিক্রিয়া দেখাবে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে পরিস্থিতি যখন ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের বানানো ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য স্বল্প ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পথে অগ্রসর হচ্ছে, রাশিয়া তখন মনে করছে একই ধরনের অস্ত্র মোতায়েনে বিরত থাকার যে একতরফা স্থগিতাদেশ তা বজায় রাখার শর্তগুলো বিলীন হয়ে গেছে। ১৯৮৭ সালে তৎকালীন সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচভ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের মধ্যে এই আইএনএফ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। যার অধীনে উভয়পক্ষ ৫০০ থেকে সাড়ে ৫ হাজার কিলোমিটার পাল্লার ভূমি থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের বহর সরিয়ে নিয়েছিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত