ফিলিস্তিনের পক্ষে ও ইহুদিবিরোধী বিক্ষোভের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার ৫৮৪ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল তহবিল স্থগিত করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বুধবার (৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়টির চ্যান্সেলর জুলিও ফ্রেঙ্ক এক বিবৃতিতে জানান। খবর এবিসি নিউজ
প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, যেটির অনুদান ইহুদি-বিরোধিতা ও অ্যাফার্মেটিভ অ্যাকশন সংক্রান্ত বর্ণ বৈষম্যের অভিযোগে স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বেসরকারি কলেজগুলোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের অভিযোগে অনুদান আটকে দিয়েছে।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উদ্বেগ জানিয়েছে। বিশেষ করে এসব বিক্ষোভে ‘এন্টিসেমিটিজম (ইহুদি-বিরোধিতা)’ মেনে নিয়েছে বলে দাবি ট্রাম্প প্রশাসনের।
এর আগে গত বছর ফিলিস্তিনের পক্ষে ক্যালিফোর্নিয়াসহ দেশটির একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে বড় আকারের বিক্ষোভ হয়েছে গত বছর। সরকার বলছে, এসব বিক্ষোভে ইহুদি-বিরোধী বক্তব্য ও আচরণ প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার চ্যান্সেলর জুলিও ফ্রেঙ্ক এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বর্তমানে আনুমানিক ৫৮৪ মিলিয়ন ডলারের বাইরে-থেকে-আসা অনুদান ঝুঁকিতে আছে এবং স্থগিত রয়েছে। যদি এই তহবিল স্থগিতই থাকে, তাহলে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার জন্য এবং পুরো আমেরিকার জন্য এটি হবে ধ্বংসাত্মক। এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহু যুগান্তকারী গবেষণা বের হয়েছে যা সারা দেশকে উপকৃত করেছে।’
তিনি জানান, এই স্থগিতাদেশে ন্যাশনাল সায়েন্স ফাউন্ডেশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ এবং এনার্জি ডিপার্টমেন্ট-এর অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা কার্যক্রম সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থার প্রেসিডেন্ট জেমস মিলিকেন জানান, তারা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করতে সম্মত হয়েছে যেন তহবিল ফেরত আনা যায়। তার মন্তব্য, ‘তহবিল কাটা ইহুদি-বিরোধিতা মোকাবেলায় কোনো কাজের কাজ করে না। এই অর্থ কাটা হলে তা হবে এমন সব গবেষণার মৃত্যু ঘণ্টা—যেগুলো জীবন বাঁচায়, আমাদের অর্থনীতি বাড়ায় এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করে। দেশটির স্বার্থে অনুদান পুনরায় চালু করা উচিত।’
গত সপ্তাহেই ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ৬ মিলিয়ন ডলার জরিমানা দিয়ে একটি মামলা মীমাংসা করেছে, যেখানে কিছু শিক্ষার্থী ও এক অধ্যাপক ইহুদি-বিরোধিতার অভিযোগ তুলেছিলেন। এ বছরের শুরুতেও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, যেখানে অভিযোগ ছিল ২০২৪ সালে প্রো-প্যালেস্টাইনি বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংস হামলা চালানো হয়েছে।
সম্প্রতি, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা করে এবং সরকারকে ২২০ মিলিয়ন ডলার দিতে সম্মত হয়। ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয় ৫০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এখনো আলোচনা চলছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, গাজার যুদ্ধের ফলে ইহুদি-বিরোধিতা, আরব-বিরোধিতা ও ইসলামোফোবিয়া বেড়ে গেছে। কিন্তু সরকার ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত শুরু করেনি।
