৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে দপ্তরি গ্রেপ্তার

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৮:৫৯ পিএম

দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের তাজনগর চড়কডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগে ঐ স্কুলের দপ্তরিকে আটক করা হয়েছে।

গত বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা ২টার দিকে এলাকাবাসী পলাশ চন্দ্র রায় (৩৩) নামের ঐ বিদ্যালয়ের দপ্তরিকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। অভিযুক্ত পলাশ উপজেলার মন্মথপুর ইউনিয়নের তাজনগর ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের সতীশ চন্দ্র রায়ের ছেলে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, তাজনগর চড়কডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি ৫ম শ্রেণির ঐ ছাত্রীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে শারিরিক নির্যাতন করে। বিষয়টি ভুক্তভোগী তার পরিবারের সদস্যদের জানায়।

পরে, এলাকাবাসী ছাত্রীকে ইভটিজিং অভিযোগে পলাশকে বিদ্যালয়ে আটক করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে পার্বতীপুর মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) মাসুদ রানাসহ একদল পুলিশ বিদ্যালয়ে পৌঁছালে দপ্তরিকে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে যায়।

এঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় অভিযোগ না করায় পুলিশ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকাল ৩টায় ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫১ ধারায় অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালত পাঠিয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণিতে নিয়মিত ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১২ থেকে ১৪ জন। কিন্তু আজ (বৃহস্পতিবার) মাত্র তিনজন শিক্ষার্থীর দেখা মিলে। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতিও কম ছিল।

স্কুলের সহকারি শিক্ষক লায়লা আক্তার জানান, বুধবার সকালে বৃষ্টি ছিল। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সেদিন স্কুলে আগেই এসেছিল। তবে, সকালে কি ঘটেছে বিষয়টি জানি না। গত বুধবার সকালে স্কুলে এসে শিক্ষার্থীর অভিভাবক বিষয়টি জানিয়েছেন। এঘটনার পর আজকে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে আসেনি।

তাজনগর চড়কডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, স্থানীয় অভিভাবক মহলও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।  

তাজনগর চড়কডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও পার্বতীপুর উপজেলা সহকারি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নীহার রঞ্জন রায় দৈনিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। আজকে (বৃহস্পতিবার) স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অফিসে ডেকে পাঠিয়েছি বিস্তারিত জানার জন্য। তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর মডেল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন দৈনিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশের টিম ঘটনাস্থল থেকে দপ্তরিকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৫১ ধারা মোতাবেক আদালতে পাঠানো হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত