গর্ভে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতালের মালিকসহ পুলিশ হেফাজতে ৩ জন

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ০৯:১১ পিএম

ময়মনসিংহ নগরীর ব্রাহ্মপল্লী রোডের হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে অবহেলার কারণে মায়ের গর্ভে শিশু মৃত্যুর অভিযোগে ঐ হাসপাতালের মালিক, ম্যানেজারসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নিয়েছেন।

তারা হলেন-হাসপাতালের মালিকানার অংশীদার রঞ্জন দে, মো. পাপ্পু এবং ম্যানেজার মজিবুর রহমান। বৃহস্পতিবার বেলা ১টার দিকে এই অভিযান চালায় পুলিশ। বর্তমানে তারা কোতোয়ালি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

এর আগে ৩ আগস্ট সকালে নগরীর ব্রাহ্মপল্লী রোডের হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে গর্ভে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

অন্যদিকে, এই ঘটনার পর হাসপাতালটি বন্ধের নোটিশ জারি ও তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন করেছেন জেলা সিভিল সার্জন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, গর্ভবতী রোজীনা আক্তারকে (৪৫) জামালপুর হাসপাতাল থেকে পাঠানো করা হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু রোগী ময়মনসিংহ এলে তিনি দালালের খপ্পরে পড়ে হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে আসেন। কিন্তু তখন ওই হাসপাতালে ডাক্তার না থাকায় রোগী প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করে বেরিয়ে যেতে চান। এ সময় হাসপাতালের মালিক পক্ষ লিফট বন্ধ করে দেয়। রোগীকে সিঁড়ি বেয়ে নামাতে গেলে পড়ে যান। এতে গর্ভবতী মায়ের জরায়ুতে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারাত্মক রক্তক্ষরণ হয়। পরবর্তী সময় গর্ভেই শিশুটি মারা যায়।

ওসি আরও বলেন, এই ঘটনাটি জানার পর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এটি বন্ধের নির্দেশনা জারি করেছে। এ ঘটনায় আমরা হাসপাতালের মালিক, ম্যানেজারসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রেখেছি। তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এখনো ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে হাসপাতালটির মালিক পক্ষের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এমনকি সরেজমিন হাসপাতালে গিয়েও দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে, ৭ আগস্ট জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম খান স্বাক্ষরিত নোটিশে উল্লেখ্য করা হয়, ‘ঘটনার খবর পেয়ে সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে হাসপাতালটির নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। এতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের লাইসেন্স পাওয়া গেলেও অনেক ত্রুটি রয়েছে। অনেক দিন ধরে এই হাসপাতালটি নিয়মবহির্ভূত পরিচালিত হয়ে আসছিল। যা প্রাইভেট হাসপাতাল পরিচালনার পরিপন্থী।’

ডা. মোহাম্মদ ছাইফুল ইসলাম খান জানান, এ ঘটনার অনুসন্ধানে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তের জন্য ইতোমধ্যে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতাল বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত