ডোপ টেস্টে পজিটিভ ২ প্রার্থী হচ্ছেন চবি শিক্ষক

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৮ পিএম

ডোপ টেস্টে পজিটিভ দুই প্রার্থী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে যাচ্ছেন। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মাঝে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিরূপ প্রতিক্রিয়া। কর্তৃপক্ষ বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোন নিয়োগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলাফল পজিটিভ আসলে কাউকেই নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের লিখিত, প্রেজেন্টেশন ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন দুইজন শিক্ষক প্রার্থী। তারা হলেন গোলাম রাব্বানী ও ড. ইমরুল আসাদ।

শিক্ষক হতে যাওয়া দুই প্রার্থীর শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তাদের ডোপ টেস্টের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে তাদের ডোপ টেস্ট করানো হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব।

তিনি বলেন, ‘শরীরে মাদকের উপস্থিতি আছে কি না সেটা প্রমাণের জন্য দুইজন শিক্ষক প্রার্থীর ডোপ টেস্ট করানো হয়েছে। গত ৪ আগস্ট গোলাম রাব্বানী ও ড. ইমরুল আসাদ নামে দুই প্রার্থীর ডোপ টেস্ট করানো হয়। এতে তাদের ফলাফল পজিটিভ এসেছে। আমরা সেখানে গাঁজা জাতীয় মাদকের উপস্থিতি পেয়েছি।’

এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মাঝে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। চবির দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজনা শারমিন বলেন, ‘শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর শিক্ষকরা হলেন সেই মেরুদণ্ড গঠনের কাণ্ডারী। তারা যদি মাদকাসক্ত হয়ে থাকেন তাহলে জাতি গঠনে তারা কিভাবে ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া তাদের মাধ্যমে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হবে বলে আমার মনে হয় না।’

বিগত বছরগুলোতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও স্বজনপ্রীতিসহ বিভিন্ন অনিয়ম হওয়ায় সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, একজন শিক্ষক প্রার্থীকে প্রথমে লিখিত পরীক্ষায় বসতে হয়, নূন্যতম নম্বর পেয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রার্থীর গুনগত মান পরীক্ষার উদ্দেশ্যে তার প্রেজেন্টেশন দক্ষতা যাচাই করা হয়। এরপর প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়। অবশেষে প্রার্থীর শরীরে মাদকের উপস্থিতি আছে কি না তার জন্য ডোপ টেস্ট করানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ডোপ টেস্ট করানোর বিষয়টি পূর্বে কখনোই ছিল না। বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে ডোপ টেস্ট করানোর মাধ্যমে এই নিয়ম চালু করেছে। এই নিয়মের আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী সবাই রয়েছেন। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য।

শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া দুই শিক্ষকের নিয়োগ চূড়ান্ত হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের ডোপ টেস্ট করানো হয়, সেখানে এমন প্রার্থীকে কিভাবে আমরা শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারি। ফলাফল পজিটিভ আসলে কাউকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ নেই।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীর যে কোন নিয়োগে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যাদের ডোপ টেস্ট পজিটিভ আসবে, আমরা তাদেরকে কোন ভাবেই নিয়োগ করতে পারি না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত